ঈদের ছুটিতে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকের ঢল, তীব্র আবাসন সংকট

ঈদের ছুটিতে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকের ঢল, তীব্র আবাসন সংকট

ঈদের ছুটিতে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকের ঢল, তীব্র আবাসন সংকট
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ঈদের টানা ছুটিতে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকের চাপ বাড়ায় তীব্র আবাসন সংকট দেখা দিয়েছে। আগাম বুকিং ছাড়া পৌঁছানো শত শত পর্যটক রিসোর্ট- কটেজে জায়গা না পেয়ে বারান্দা, স্থানীয়দের বাড়ি, ক্লাবঘর এমনকি খোলা জায়গা ও রাস্তায় রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এই জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। ফলে সাজেকের প্রায় সব রিসোর্ট-কটেজই এখন পূর্ণ দখলে রয়েছে।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ ওনার্স এসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, “সাজেকে প্রায় ১১১টি রিসোর্ট-কটেজ রয়েছে। ২২ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সবগুলো কটেজই শতভাগ বুকড। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পর্যটক এখানে আসছেন।”

ঈদের ছুটিতে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকের ঢল, তীব্র আবাসন সংকট

পর্যটক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের ভোগান্তি এড়াতে সাজেকে ভ্রমণের আগে অবশ্যই আগাম রুম বুকিং নিশ্চিত করা উচিত। পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে খাগড়াছড়ি শহরে অবস্থান করে পরিকল্পনা নিয়ে ভ্রমণে গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হবে।

বাঘাইহাট সেনা জোনের তথ্য অনুযায়ী, গেল মঙ্গলবার সকাল ও বিকেল মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন পর্যটক সাজেক ভ্রমণ করেছেন। আগের দিন সোমবার সাজেকে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পর্যটক গিয়েছেন।

সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, একসঙ্গে সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ হাজার মানুষের রাত্রীযাপনের সক্ষমতা রয়েছে। এর বেশি পর্যটক হলে আবাসন সংকট তৈরি হয় এবং ভোগান্তি বেড়ে যায়। ঈদের ছুটিতে প্রতিদিনই এই সক্ষমতার বেশি মানুষ সাজেকে যাচ্ছেন, ফলে চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ঈদের ছুটিতে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকের ঢল, তীব্র আবাসন সংকট

এছাড়া ছুটির এই দিনগুলোতে প্রতিদিনই প্রায় একই সংখ্যক পর্যটক সাজেকে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যা পর্যটনকেন্দ্রটির উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেকেই রুম না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বা বিকল্প স্থানে রাত কাটাচ্ছেন।

সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মণ বলেন, “ঈদের লম্বা ছুটিতে সাজেকে পর্যটকের চাপ অনেক বেড়েছে। আমাদের সব কটেজই শতভাগ বুকড। যাদের রুম নেই, তাদের জন্য সমিতির পক্ষ থেকে বিকল্প থাকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।”

শুধু আবাসন নয়, পরিবহন খাতেও সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক যানবাহন সাজেক যেতে পারছে না, এতে অনেক পর্যটক খাগড়াছড়ি থেকে ফিরে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিশাত রায় বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২৪ ঘণ্টা টহল দেওয়া হচ্ছে। ছুটির সময় ভিড় বেড়েছে, তাই টহলও বাড়ানো হয়েছে। জরুরি সেবাও চালু রয়েছে।”

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *