যুক্তরাষ্ট্রের ইরান দখলের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিলো কুর্দি যোদ্ধারা

যুক্তরাষ্ট্রের ইরান দখলের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিলো কুর্দি যোদ্ধারা

যুক্তরাষ্ট্রের ইরান দখলের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিলো কুর্দি যোদ্ধারা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর আগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ছিল, প্রথম দিনেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের হত্যা করা সম্ভব হবে। তাদের প্রত্যাশা ছিল, এতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে এবং জনরোষের মুখে সরকার পতন ঘটবে। তবে বাস্তবে তা ঘটেনি। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চললেও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো দৃঢ়ভাবে টিকে আছে।

পরিস্থিতি প্রত্যাশামতো না হওয়ায় কৌশল পরিবর্তনের চিন্তা করা হয়। স্থল হামলার মাধ্যমে দেশটি দখলের পরিকল্পনা বিবেচনায় এলেও, তা মার্কিন বাহিনীর পক্ষে বাস্তবসম্মত নয় বলে ধরা হয়। এর পরিবর্তে ইরানের সীমান্তবর্তী ইরাকে অবস্থানরত কুর্দি যোদ্ধাদের প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ তার প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা বারবার বলে আসছেন, কুর্দি বাহিনী ইরানে হামলা চালিয়ে শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে।

ওয়াশিংটনের সেই স্বপ্নও আর পূরণ হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কাছের মিত্র যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো একে একে ট্রাম্পকে ছেড়ে গেছে। এবার ‍কুর্দিরা সাফ জানিয়ে দিল যে, তারা ইরানে হামলা করবে না।

একজন শীর্ষস্থানীয় ইরাকি কুর্দি কমান্ডার বলেছেন, তার বাহিনীর ইরান আক্রমণ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তাদের ঘাঁটিতে ইরানের অব্যাহত হামলায় তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

পেশমারগা বাহিনীর মেজর-জেনারেল এবং কোটিপতি ব্যবসায়ী সিরওয়ান বারজানি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল প্রায় ৪৩০টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে।

উত্তর ইরাকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী কুর্দি ফ্রন্টলাইনের দায়িত্বে থাকা সিরওয়ান মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সাক্ষাৎকার দেন। একই দিনে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পেশমারগা বাহিনীর ৬ সদস্য নিহত এবং ৩০ জন আহত হন।

ইরাকি কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানির তুতো ভাই এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানির ভাতিজা এই টেলিযোগাযোগ খাতের ব্যবসায়ী হামলাটিকে একটি ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ইরানের প্রসঙ্গ টেনে সিরওয়ান বলেন, ‘প্রতিদিন পেশমারগা ঘাঁটিতে তারা কেন হামলা চালাচ্ছে? এর পেছনের কারণ কী? আমরা তো তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করিনি। আমরা প্রতিবেশী। আমাদের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে।’

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *