জ্বালানি সংকটে মিয়ানমারে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি, পাম্পে আবারও তেলশূন্যতা
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারে জ্বালানির দাম শুক্রবার ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, একই সঙ্গে দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে আবারও তেলশূন্যতার পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াঙ্গুনে প্রিমিয়াম ডিজেলের দাম রাতারাতি প্রতি লিটার ৪,৮২০ কিয়াত থেকে বেড়ে ৬,০৮৫ কিয়াতে (প্রায় ১.৩০ মার্কিন ডলার) পৌঁছেছে। অকটেন ৯৫-এর দাম ৩,৮৫০ থেকে বেড়ে ৪,৯৭৫ কিয়াত হয়েছে, আর অকটেন ৯২-এর দাম ৩,৬১০ থেকে বেড়ে ৪,৪৫০ কিয়াতে দাঁড়িয়েছে।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে, অভ্যুত্থানের ঠিক কয়েকদিন আগে, অকটেন ৯৫ বিক্রি হচ্ছিল প্রতি লিটার ৭৬৫ কিয়াতে, অকটেন ৯২ ছিল ৬৫৫ কিয়াত এবং প্রিমিয়াম ডিজেল ছিল ৭০৫ কিয়াত।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ সংকট তীব্রতর হওয়ায়, জান্তার জ্বালানি মন্ত্রী মঙ্গলবার আবারও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গাড়িচালকদের সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুইবার (মোট ৪৫ লিটার) জ্বালানি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ট্যাক্সির জন্য সাপ্তাহিক বরাদ্দ ১১০ লিটার, ট্রাকের জন্য ১৫০ লিটার, মাইক্রো ও মিনিবাসের জন্য ১১০ লিটার এবং ট্র্যাক্টরের জন্য ২৫০ লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য জনসেবা সংশ্লিষ্ট যানবাহনকে এই সীমার বাইরে রাখা হয়েছে।
তবে নতুন এই বিধিনিষেধেও পেট্রোল পাম্পগুলোর বিশৃঙ্খলা কমেনি। বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, গাড়িগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি সারারাত ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে, অথচ পাম্প খোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জ্বালানি শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এর আগে ৭ মার্চ জান্তা ‘জোড়-বিজোড়’ ভিত্তিক রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছিল, যেখানে ব্যক্তিগত গাড়ি একদিন পরপর জ্বালানি নিতে পারত। তবে এই ব্যবস্থা এখনও কার্যকর আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ইয়াঙ্গুনের এক ট্যাক্সিচালক জানান, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার কারণে তার আয় এতটাই কমে গেছে যে, রাস্তায় থাকা আর লাভজনক নয়।
তিনি বলেন, “আমাকে দুই দিন কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এখন অকটেনের দাম প্রায় ৫,০০০ কিয়াত ছুঁইছুঁই, আবার কতটুকু কিনতে পারবো তারও সীমা আছে। এখন শুধু পরিস্থিতি দেখি আর আশা করি, হয়তো উন্নতি হবে।”
জ্বালানি সংকট অন্যান্য খাতেও প্রভাব ফেলছে। পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। কৃষিখাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ ফসল কাটানো ও পুনরায় রোপণের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছে না ট্র্যাক্টরগুলো।
তবে এই সংকট সত্ত্বেও জান্তার বিমান হামলা বন্ধ হয়নি। অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলো জ্বালানি সংকটে ফ্লাইট কমিয়ে দিলেও, জান্তা একাধিক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে একেকটি অভিযানে সর্বোচ্চ আটটি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এতে বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ‘ব্লাড মানি’ নামের একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, জান্তা বেসামরিক বিমান সংস্থাগুলোর জ্বালানি জব্দ করে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তাদের যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে।
সংস্থাটি আসিয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধাপরাধে ব্যবহৃত জ্বালানি সরবরাহ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।