মারমা জনগোষ্ঠীর জলোৎসবের মাধ্যমে রাঙামাটিতে শেষ হল বর্ষবিদায় ও বরণ আয়োজন

মারমা জনগোষ্ঠীর জলোৎসবের মাধ্যমে রাঙামাটিতে শেষ হল বর্ষবিদায় ও বরণ আয়োজন

মারমা জনগোষ্ঠীর জলোৎসবের মাধ্যমে রাঙামাটিতে শেষ হল বর্ষবিদায় ও বরণ আয়োজন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলোৎসবের মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে শেষ হয়েছে বাংলা বর্ষ বিদায় ও নববর্ষ বরণের উৎসব। আজ শুক্রবার সকালে শহরের চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে মারমা সংস্কৃতি সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবরণ ‘রিলং পোয়া’ বা জলকেলি উৎসবে মেতে ওঠেন মারমা তরুণ-তরুণীরা।

উৎসবের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এমপি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে দুই সারিতে দাঁড়িয়ে মারমা তরুণ-তরুণীরা পাত্রভর্তি পানি একে অপরের গায়ে ছিটিয়ে পুরোনো বছরের সব দুঃখ, কষ্ট ও গ্লানি ধুয়ে ফেলার প্রতীকী আয়োজন করেন। নতুন বছরের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও শুভকামনার বার্তা দিতেই এই জলকেলি অনুষ্ঠিত হয়।

মারমা জনগোষ্ঠীর জলোৎসবের মাধ্যমে রাঙামাটিতে শেষ হল বর্ষবিদায় ও বরণ আয়োজন

মারমা জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস অনুযায়ী, এ জলকেলির মাধ্যমে পুরাতন বছরের অপশক্তি দূর হয়ে নতুন বছরের শুভ সূচনা ঘটে। জনশ্রুতি রয়েছে, এই উৎসব তরুণ-তরুণীদের পারস্পরিক পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রও তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়, যা উৎসবে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। সাংগ্রাই জলোৎসব উপভোগ করতে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদেরও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় পরিচয়ের এই ধারণা সকল বৈষম্যের ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে। তিনি আরও বলেন, মারমা সম্প্রদায়ের উৎসব হলেও এতে পাহাড়ের সব জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

মারমা জনগোষ্ঠীর জলোৎসবের মাধ্যমে রাঙামাটিতে শেষ হল বর্ষবিদায় ও বরণ আয়োজন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং এসব সামাজিক উৎসবের মাধ্যমেই এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, সাংগ্রাই এখন কেবল মারমা সম্প্রদায়ের নয়, বরং পাহাড়ের সব জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব উৎসব আমাদের শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ যে অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ, এ ধরনের মিলনমেলাই তার বাস্তব প্রমাণ। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেক ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে থাকায় সেগুলো সংরক্ষণে নতুন প্রজন্মকে সচেতন হতে হবে।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর সাংগ্রাই উৎসব পার্বত্য অঞ্চলে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করে এবং সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *