মণিপুরে জাতিগত সহিংসতায় বাস্তুচ্যুত ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ, নিহত ২১৭
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের মণিপুর রাজ্যে ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত চলমান জাতিগত সহিংসতায় ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। রাজ্য সরকারের প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
গত ২০ এপ্রিল তথ্য অধিকার আইন (আরটিআই) এর আওতায় দেওয়া এক আবেদনের জবাবে মণিপুরের স্বরাষ্ট্র বিভাগ এ তথ্য প্রকাশ করে। আবেদনকারী হরেশ্বর গোশ্বামী জানান, তথ্যটি পেতে তার প্রায় সাত মাস সময় লেগেছে।
সরকারি তথ্যমতে, এ সময়কালে সহিংসতার কারণে মোট ৫৮ হাজার ৮২১ জন মানুষ তাদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৭ জনে, যা নিহতদের পরিবারকে দেওয়া আর্থিক সহায়তার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আহতদের আলাদা কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত ১৭৪টি ত্রাণ শিবির চালু রয়েছে, যেখানে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছেন। পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে মণিপুর পুলিশ হাউজিং করপোরেশন লিমিটেডের মাধ্যমে ৩ হাজার প্রিফ্যাব্রিকেটেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
সহিংসতায় ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৮৯৪টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ২ হাজার ৬৪৬টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে উপত্যকাভিত্তিক মেইতেই সম্প্রদায় ও পার্বত্য এলাকার কুকি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের মাধ্যমে এ সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে। দীর্ঘমেয়াদি এই অস্থিরতায় সৃষ্ট ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও ক্ষয়ক্ষতি রাজ্যটিতে মানবিক সংকট ও পুনর্বাসন চ্যালেঞ্জকে আরও জটিল করে তুলেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।