মিয়ানমার বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে টুন উইনকে নিয়োগ, উৎসবকালেও বিমান হামলা অব্যাহত

মিয়ানমার বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে টুন উইনকে নিয়োগ, উৎসবকালেও বিমান হামলা অব্যাহত

মিয়ানমার বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে টুন উইনকে নিয়োগ, উৎসবকালেও বিমান হামলা অব্যাহত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী টুন উইনকে বিমান বাহিনীর প্রধান (কমান্ডার-ইন-চিফ, এয়ার) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বলে জানিয়েছে Myanmar Defense and Security Institute (এমডিএসআই), যা ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর পলাতক সামরিক কর্মকর্তাদের গঠিত একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে তাকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল থেকে জেনারেল পদে পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছে।

বিমান বাহিনীতে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের রদবদলের ধারাবাহিকতায় এই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গত নভেম্বরে টুন উইন বিমান বাহিনীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ ‘চিফ অব স্টাফ’ হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি ওই পদে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাও উইন মিন্টের স্থলাভিষিক্ত হন, যাকে পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয় এবং জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর আগে বিমান বাহিনীর প্রধান জেনারেল টুন আউংকে রাষ্ট্রপতি সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং-এর নতুন মন্ত্রিসভায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হলে ওই পদটি শূন্য হয়। এরপরই প্রতিরক্ষা সেবা একাডেমির ৩৪তম ব্যাচের স্নাতক টুন উইনকে ওই পদে বসানো হয়।

এমডিএসআই-এর তথ্যমতে, কর্নেল থাকা অবস্থায় টুন উইন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা একাডেমিতে নেতৃত্ব ও সামরিক প্রশাসন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের সময় তিনি পাথেইন বিমানঘাঁটির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এরপর দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে দুই বছরের মধ্যে মেজর জেনারেল হন এবং ২০২৪ সালে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পান।

জেনারেল ইয়ে উইন ওও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা বাড়িয়েছে। প্রতিটি হামলায় এখন তিনটি বা তার বেশি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে আগে সাধারণত একটি জেটই ব্যবহৃত হতো। দেশজুড়ে প্রতিদিনের বোমা হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট, বিশেষ করে বিমান জ্বালানির ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও, সামরিক জান্তা অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত (আইডিপি) শিবির, স্কুল এবং ধর্মীয় স্থাপনাসহ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে।

প্রচলিত মিয়ানমার নববর্ষ উপলক্ষে পালিত থিংগ্যান উৎসবের চার দিনে সামরিক বাহিনী অন্তত ২৬টি বিমান হামলা চালায়। এসব হামলায় দেশটির ১৫টি রাজ্য ও অঞ্চলের মধ্যে সাতটিতে অন্তত ২৩ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে শিশু ও বৌদ্ধ শিক্ষানবিশও রয়েছে, এবং আহত হন প্রায় ৫০ জন। এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইরাবতী।

উৎসব চলাকালে অন্তত ছয়টি বৌদ্ধ বিহারেও হামলা চালানো হয়, যেখানে সাধারণত উৎসব উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধরা সমবেত হন।

১৩ থেকে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে মাগওয়ে, সাগাইং, মান্দালয় ও বাগো অঞ্চল এবং রাখাইন, চিন ও কারেন রাজ্যের ২০টি টাউনশিপে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে, যদিও ওই সময় অনেক স্থানে স্থলযুদ্ধ চলছিল না।

এদিকে বেসামরিক জাতীয় ঐক্য সরকারের মানবাধিকার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিলের মধ্যে সামরিক বাহিনী ১২টি অঞ্চল ও রাজ্যে মোট ৯২টি গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালায়। এতে নিহত হন ৭২ জন এবং আহত হন আরও ৯১ জন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের মধ্যে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed