পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে ‘অপপ্রচার’ অভিযোগ, ইয়েন ইয়েনকে সতর্ক করল জেলা প্রশাসন
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংবেদনশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ অভিযোগ উত্থাপনের অভিযোগে ইয়েন ইয়েনকে সতর্ক করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার জুডিসিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে চলতি এপ্রিল মাসের ৬ তারিখে জারি করা স্মারকে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখার একটি চিঠির সূত্র ধরে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানা গেছে- মিজ ইয়েন ইয়েন পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপনসহ অপপ্রচারে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ অবস্থায় এ ধরনের কার্যক্রম পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে বক্তব্য প্রদান ও যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য তাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইয়েন ইয়েন হলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের দ্বিতীয় স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে বলে জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ইস্যু আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরার ক্ষেত্রে কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন প্রায়ই অতিরঞ্জিত বা একপাক্ষিক তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগে সমালোচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভূমি ইস্যু এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে বিদেশি মহলে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা চলছে কিনা- তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।
তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে ইয়েন ইয়েনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলের বিষয়ে যেকোনো বক্তব্য বা কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্বশীলতা ও তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অন্যথায় তা স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রচারণা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা প্রশাসনের বাড়তি নজরদারির কারণ হয়ে উঠেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।