শহীদ ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের বীর উত্তমের শাহাদাৎবার্ষিকীতে সেনাবাহিনীর গভীর শ্রদ্ধা
![]()
নিউজ ডেস্ক
মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর সেনানী ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের-এর ৫৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী আজ। দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে এই অকুতোভয় বীরকে।
জানা যায়, ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে যোগদান করেন ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে আর্টিলারি কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হয়ে ১৯৭০ সালে হায়দ্রাবাদ ক্যান্টনমেন্টে ৪০ ফিল্ড রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ১৯৭১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হতেই তিনি ব্যক্তিগত জীবনের সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
বিয়ের মাত্র ৫১ দিনের মাথায় ২৮ মার্চ ফেনীর শুভপুর এলাকায় তৎকালীন ইপিআর বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়ে তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। পরবর্তীতে ৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এলাকায় অবস্থান নেন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিরোধের মুখে পড়ে রামগড়কে মুক্তিবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত করে। সেই প্রেক্ষাপটে তারা মহালছড়ি-নানিয়ারচর এলাকায় অগ্রসর হলে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। ওই যুদ্ধে ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন।
২৭ এপ্রিল দুপুরে পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ জোরদার করলে পরিস্থিতি ক্রমেই প্রতিকূল হয়ে ওঠে। শত্রুপক্ষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সহযোদ্ধারা পিছু হটার পরামর্শ দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। বরং সম্মুখসারিতে থেকে মেশিনগানের নিরবচ্ছিন্ন গুলিবর্ষণের মাধ্যমে শত্রুদের কোণঠাসা করে ফেলেন।
যুদ্ধের এক পর্যায়ে একটি এলএমজি বিকল হয়ে পড়লে বিপদের মুখে পড়ে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা। এ অবস্থায় ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের নিজেই ঝুঁকি নিয়ে সামনে এগিয়ে যান। ঠিক সেই সময় শত্রুর গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পেট ও বাহুতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও তিনি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ চালিয়ে যান, যা তার অসীম বীরত্ব ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
পরে সহযোদ্ধারা তাকে উদ্ধার করে রামগড়ের পথে নিয়ে যাওয়ার সময় গুইমারা এলাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেদিনই বিকেলে তার মরদেহ রামগড়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করা হয়।
১৯৪৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করা এই বীর সেনানীর পৈত্রিক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায়। শৈশব কাটে পুরান ঢাকার ফরিদাবাদ এলাকায়। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালে তাকে মরণোত্তর ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
তার স্মৃতিকে অম্লান রাখতে খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও মহালছড়িতে স্মৃতিসৌধ ও ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া তার নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শহীদ ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদেরের আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাঁথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।