ইরান যুদ্ধের ফাঁকে ফের সক্রিয় সোমালি জলদস্যুরা, ছিনতাই বাড়ছে লোহিত সাগর–এডেন উপসাগরে

ইরান যুদ্ধের ফাঁকে ফের সক্রিয় সোমালি জলদস্যুরা, ছিনতাই বাড়ছে লোহিত সাগর–এডেন উপসাগরে

ইরান যুদ্ধের ফাঁকে ফের সক্রিয় সোমালি জলদস্যুরা, ছিনতাই বাড়ছে লোহিত সাগর–এডেন উপসাগরে
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সুযোগে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে সোমালি জলদস্যুরা। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নৌ নজরদারি শিথিল হওয়ার সুযোগে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

সবশেষ শনিবার (২ মে) ইয়েমেন উপকূল থেকে ‘এমটি ইউরেকা’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকার ছিনতাইয়ের ঘটনা সামনে এসেছে।

ইয়েমেনের কোস্টগার্ড জানায়, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশের উপকূলে সশস্ত্র হামলাকারীরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সেটিকে সোমালিয়া উপকূলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। জাহাজে থাকা নাবিকদের অবস্থা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক সপ্তাহে সোমালিয়া সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় এটি চতুর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনা। এর আগে ২১ এপ্রিল প্রায় ১৮ হাজার ব্যারেল তেলসহ একটি ট্যাংকার ছিনতাই করা হয়। এরপর পাঁচ দিনের মধ্যে আরও দুটি জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পড়ে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে উত্তেজনা এবং নৌ চলাচলে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর টহল নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নজরদারির এই ফাঁককে কাজে লাগিয়েই জলদস্যুরা আবারও সংগঠিত হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন নৌবাহিনী জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকেই সোমালি উপকূলে জলদস্যু তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের ভাষায়, বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিরতা জলদস্যুদের জন্য একটি “সুযোগের জানালা” তৈরি করেছে।

অন্যদিকে UK Maritime Trade Operations সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুতার হুমকি ‘উল্লেখযোগ্য’ বলে সতর্ক করেছে এবং এ অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।

এক সময় সোমালিয়া উপকূল ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জলদস্যুপ্রবণ এলাকা। ২০১১ সালে সেখানে ২০০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, সে সময় জলদস্যুতার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতো। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক নৌ জোটের জোরদার তৎপরতায় ২০১৪ সালের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে ২০২৩ সাল থেকে আবারও জলদস্যু হামলা বাড়তে শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, হুথি গোষ্ঠী-এর হামলা মোকাবিলায় নৌ টহল লোহিত সাগরে সরিয়ে নেওয়াও এ পরিস্থিতির একটি বড় কারণ।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ইরানকে ঘিরে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জলদস্যু তৎপরতা আরও বাড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ চেইনে নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *