রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত পরিকল্পনা, কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত পরিকল্পনা, কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত পরিকল্পনা, কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার সুসংগঠিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত “বলপ্রয়োগ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি”-এর সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে, যাদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত পরিকল্পনা, কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং অভ্যন্তরীণ অপরাধ দমনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পুলিশ, র‍্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে। ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জয়েন্ট ফোর্সের নেতৃত্ব, দায়িত্ব বণ্টন এবং অপারেশনাল কার্যক্রম নিয়েও সভায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ক্যাম্পভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কৌশল নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপরাধ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত পরিকল্পনা, কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও আইনানুগ অবস্থানে রয়েছে।”

পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ সম্পূর্ণরূপে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।

এদিকে ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালানে জড়িত বড় সিন্ডিকেটগুলোকে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত পরিকল্পনা, কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি মন্ত্রী জানান, কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া অপরাধীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে তারা পুনরায় অপরাধে জড়াতে না পারে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে।”

সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *