ভারতের নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে মিয়ানমার সেনাপ্রধানের বৈঠক, সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের নতুন সেনাপ্রধান ইয়ে উইন ওও দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সোমবার তিনি ভারতের নৌবাহিনী প্রধান দীনেশ কুমার ত্রিপাঠির সঙ্গে নেপিডোতে বৈঠক করেন।
জান্তা নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে যৌথ সামরিক মহড়া, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বিনিময়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।
এই বৈঠকের সময়েই মিয়ানমার সেনাবাহিনী ভারত সীমান্তবর্তী চিন রাজ্য ও সাগাইং অঞ্চলে প্রতিরোধ ঘাঁটিগুলোর ওপর ব্যাপক বিমান হামলা অব্যাহত রাখে। এপ্রিলের শেষদিকে ভারী বিমান সহায়তায় চিন রাজ্যের ফালাম পুনর্দখল করে জান্তা বাহিনী এবং বৈঠকের পরদিন মঙ্গলবার উত্তর সাগাইংয়ের মাউলু এলাকা পুনর্দখল করে।
সাগাইং অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে ভারতীয় বাহিনী মিয়ানমারের ভেতরে নানইউন ও লাহে টাউনশিপে অবস্থিত United Liberation Front of Asom-Independent ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালায়। সংগঠনটি ভারতের আসাম রাজ্যের স্বাধীনতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
গত মার্চে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ছয়জন ইউক্রেনীয় নাগরিক এবং একজন মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তারা অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করে সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল।
এদিকে অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠির সফরের সময়ই ইয়াঙ্গুন বন্দরে ভারতীয় নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ পৌঁছায়, যাতে ৫০০’র বেশি কর্মকর্তা ও নাবিক অংশ নেন সৌজন্য সফরে।
বৈঠকে সেনাপ্রধান ইয়ে উইন উ’র সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চিফ অব জেনারেল স্টাফ (আর্মি, নেভি ও এয়ার) লেফটেন্যান্ট জেনারেল কো কো উ, যিনি আগে ব্যুরো অব স্পেশাল অপারেশনস-১ এর প্রধান হিসেবে চিন ও সাগাইং অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ভারতের কলকাতায় অনুষ্ঠিত সপ্তম আর্মি-টু-আর্মি স্টাফ টকসে অংশ নিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাম চন্দর তিওয়ারির সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর গত পাঁচ বছর ধরে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গে ভারত যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং এখনো তাদের কাছে অস্ত্র সরবরাহকারী অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি। একই সঙ্গে প্রতিরোধ বাহিনীর অভিযানের সময় ভারতে পালিয়ে যাওয়া মিয়ানমার সেনাদের ফিরিয়ে আনতেও সহায়তা করেছে নয়াদিল্লি।
ডিসেম্বর-জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের প্রতি ভারত সমর্থন জানিয়েছিল, যার মাধ্যমে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় ভারত এই কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করছে। গত বছরের আগস্টে চীনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীনরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মিন অং হ্লাইংয়ের বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি, নিরাপত্তা এবং বিরল খনিজ সম্পদ উত্তোলনে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠির চারদিনের এই সফর ভারতীয় নৌবাহিনীর “Neighbourhood First”, “Act East” এবং “MAHASAGAR” নীতির অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে, যা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্ব দেয়।
ভারত ও মিয়ানমার নৌবাহিনীর মধ্যে নিয়মিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে, যার মধ্যে India-Myanmar Naval Exercise, Indo-Myanmar Coordinated Patrol, হাইড্রোগ্রাফি জরিপ এবং বন্দর সফর অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ২০১৭ সালের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক এবং ২০১৯ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতে এই সহযোগিতা পরিচালিত হচ্ছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে ১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও মিজোরাম রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত, পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে উভয় দেশের সামুদ্রিক সীমারেখাও রয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।