সুচির জীবিত থাকার প্রমাণ চেয়ে ফ্রান্সের সহায়তা চান ছেলে কিম অ্যারিস

সুচির জীবিত থাকার প্রমাণ চেয়ে ফ্রান্সের সহায়তা চান ছেলে কিম অ্যারিস

সুচির জীবিত থাকার প্রমাণ চেয়ে ফ্রান্সের সহায়তা চান ছেলে কিম অ্যারিস
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেতা অং সান সুচির জীবিত থাকার স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ চেয়ে ফ্রান্সের সহায়তা কামনা করেছেন তার ছেলে কিম এরিস। মঙ্গলবার তার আইনজীবীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার দেশটির জান্তা প্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইং নির্দেশ দেন ৮০ বছর বয়সী নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সুচিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় স্থানান্তর করতে, যা ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর পাঁচ বছর পর এই প্রথম বড় ধরনের পরিবর্তন।

তবে কিম অ্যারিস জানিয়েছেন, এখনো তিনি তার মায়ের কোনো খোঁজ পাননি, যিনি এখনো মিয়ানমারের জনগণের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর উদ্দেশ্যে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেন, “আমি ফ্রান্সের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা আমার এই দাবিতে যুক্ত হয়, যাতে আমরা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত জীবিত থাকার প্রমাণ পাই এবং তার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়—যথাযথ চিকিৎসা, আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ।”

সুচির আইনজীবী ফ্রাঁসোয়া জিমারে জানান, অ্যারিস মঙ্গলবার এক বৈঠকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট-এর কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করেন।

তিনি বলেন, “বহু বছর ধরে আমরা কোনো জীবিত থাকার প্রমাণ পাইনি, কোনো ছবি পর্যন্ত নেই, এমনকি তাকে সত্যিই স্থানান্তর করা হয়েছে কি না তাও নিশ্চিত নই। আমরা এখনো জানি না তিনি কোথায় আছেন।”

গত বৃহস্পতিবার মিন অং হ্লাইংয়ের কার্যালয় থেকে একটি তারিখবিহীন ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে সুচিকে দুইজন ইউনিফর্ম পরিহিত ব্যক্তির মাঝে বসে থাকতে দেখা যায়।

তবে জিমেরে বলেন, “আমরা জানি না এটি আসল ছবি, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি।”

আরেক আইনজীবী ক্যাটালিনা দে লা সোটা বলেন, “আমরা কল্পনাও করতে পারি না যে তিনি আর বেঁচে নেই, কিন্তু কেন তাকে সম্পূর্ণ গোপনীয়তায় রাখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সব কনভেনশনের লঙ্ঘন? আমরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন।”

বৈঠকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো বলেন, ফ্রান্স “অং সান সু চির অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির জন্য কাজ চালিয়ে যাবে”, এমনটি জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং সুচির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে তাকে বিভিন্ন অভিযোগে আটক করেন, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এরপর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৫ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *