মিয়ানমার জান্তার পক্ষে লবিংয়ে যুক্ত ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ স্টোন, তীব্র সমালোচনা অধিকারকর্মীদের
![]()
নিউজ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও লবিস্ট রজার স্টোন মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে মাসিক ৫০ হাজার ডলারের চুক্তিতে যুক্ত হওয়ায় তীব্র সমালোচনা করেছে দেশটির মানবাধিকারকর্মীরা।
মঙ্গলবার মিয়ানমারভিত্তিক অধিকার সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, স্টোন ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান DCI Group একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জান্তা সরকারের কাছ থেকে লাভবান হচ্ছে, যারা দায়মুক্তির মধ্যে থেকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে অং সান সুচির সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠী পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে কার্যত ‘রাজনৈতিক একঘরে’ হয়ে রয়েছে। এরপর থেকেই দেশটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত সপ্তাহে ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট (FARA) অনুযায়ী জমা দেওয়া নথিতে প্রকাশ পায়, রজার স্টোনকে ডি.সি.আই গ্রুপের মাধ্যমে মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য “পাবলিক অ্যাফেয়ার্স সার্ভিস” দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নথি অনুযায়ী, স্টোনের কাজ হবে “মিয়ানমার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠন”, যেখানে বাণিজ্য, প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানবিক সহায়তার বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এই তথ্য প্রকাশের সময়েই মিয়ানমারের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকার নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা দাবি করছে, যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ দাবিকে গভীর সন্দেহের চোখে দেখছে।
পাঁচ বছর সরাসরি সামরিক শাসনের পর জান্তা সরকার সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের আয়োজন করে, যেখানে জান্তা-সমর্থিত বেসামরিক রাজনীতিবিদরা জানুয়ারিতে একতরফা জয় পায়। ওই নির্বাচনে আটক থাকা অং সান সু চির দলকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে নতুন পার্লামেন্ট অভ্যুত্থান নেতা মিন অং হ্লাইংকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করে, যা সমালোচকদের মতে সামরিক শাসনের ওপর একটি ‘বেসামরিক আবরণ’ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সামরিক-সমর্থিত সরকার রাজনৈতিক সংস্কারের আভাস দেখিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনর্গঠন এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে।
জাস্টিস ফর মিয়ানমার তাদের বিবৃতিতে জানায়, জান্তার “সাম্প্রতিক রিব্র্যান্ডিং”-এর পরই এই লবিং কার্যক্রম নিবন্ধিত হয়েছে।
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করে, “রজার স্টোন আন্তর্জাতিক অপরাধীদের সঙ্গে এই চুক্তিতে যুক্ত হয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দিচ্ছে। জান্তা এসব প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে দখল করে স্কুল, গির্জা, মঠ ও হাসপাতালের ওপর হামলার অর্থায়নে ব্যবহার করছে।”
রজার স্টোন দীর্ঘদিনের বিতর্কিত রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী এবং ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার পরামর্শক ছিলেন। ২০২০ সালে তিনি কংগ্রেসের তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ৪০ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, যেখানে অভিযোগ ছিল ট্রাম্পের প্রথম নির্বাচনী প্রচারণা রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশ করেছিল কিনা তা নিয়ে তদন্তে তিনি বাধা দেন।
তবে পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাজা লঘু করে দেন, ফলে তাকে কারাভোগ করতে হয়নি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।