‘পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংস করে কখনো টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়’

‘পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংস করে কখনো টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়’

‘পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংস করে কখনো টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়’
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংস করে কখনো টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ছাড়া কৃষির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। পাহাড় কেটে এবং বনভূমি উজাড় করে আদা, মুখিকচু ও কাসাবার মতো ফসলের চাষ সম্প্রসারণের কারণে পাহাড়ের আয়ু কমে যাচ্ছে, জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে।

‘পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংস করে কখনো টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়’

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় টেকসই কৃষি উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আধুনিক কৃষির নামে পরিবেশ ধ্বংসের প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনছে। খাড়া পাহাড়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে আদা, মুখিকচু ও কাসাবা চাষ বন্ধে কৃষকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হলে তার প্রভাব কৃষি, পানি ও জীববৈচিত্র্য—সবখানেই পড়বে।

‘পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংস করে কখনো টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়’

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে তা বৃষ্টির পানির সঙ্গে ধুয়ে জলাশয়ে মিশে যাচ্ছে। এতে প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই কৃষকদের কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় ও নিয়ম মেনে সার এবং কীটনাশক ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি কৃষি অফিস সবসময় কৃষকদের পাশে থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) প্রতীতি পিয়া’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহেদ উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি শাহ জালাল কাজল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল জলিল।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সেলিম রানা’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং পার্টনার ফিল্ড স্কুলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, পাহাড়ি অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ফসল চাষের কারণে পরিবেশগত ঝুঁকি বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন পরিবেশবিদ ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *