আসিয়ান সম্মেলনে মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপে সম্মত পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, বৈধতা পেতে সক্রিয় জান্তা

আসিয়ান সম্মেলনে মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপে সম্মত পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, বৈধতা পেতে সক্রিয় জান্তা

আসিয়ান সম্মেলনে মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপে সম্মত পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, বৈধতা পেতে সক্রিয় জান্তা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

আসিয়ান (ASEAN) সম্মেলনে অংশ নেওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিয়ানমারের সমকক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে শিগগিরই আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছেন। পাঁচ বছরের সামরিক শাসনের পর আঞ্চলিক স্বীকৃতি পেতে তৎপর মিয়ানমারের জান্তা সরকারের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১১ সদস্যের আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের মহাসচিব কাও কিম হোর্ন রয়টার্সকে জানান, ফিলিপাইনের সেবুতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা খুব শিগগিরই মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছেন।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট সংকটের প্রেক্ষাপটে আসিয়ান শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় সংগঠনটি মিয়ানমারের শীর্ষ নেতৃত্ব—অভ্যুত্থানকারী থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইংসহ—কে আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রেখেছে।
জান্তা সরকারের সঙ্গে পুনরায় সম্পৃক্ত হওয়ার এই সিদ্ধান্তটি থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেওর কূটনৈতিক উদ্যোগের পর আসে। তিনি একাধিকবার মিন অং হ্লাইং ও তার সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিহাসাক গণমাধ্যমকে জানান, থাইল্যান্ড মিয়ানমারকে পুনরায় আসিয়ানের সঙ্গে যুক্ত করতে ‘সেতুবন্ধন’ হিসেবে কাজ করতে চায়। এপ্রিল মাসে তিনি মিয়ানমারের পুনর্গঠিত সরকারের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মং সুয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন, যিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং সাবেক চীনস্থ রাষ্ট্রদূত।

২০২১ সালের এপ্রিল মাসে আসিয়ান মিয়ানমার সংকট সমাধানে ‘ফাইভ-পয়েন্ট কনসেনসাস’ গ্রহণ করে, যা সহিংসতা বন্ধ ও সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানায়। তবে এই পরিকল্পনা কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। বরং জান্তা সরকার সশস্ত্র প্রতিরোধ দমনে ব্যাপক দমন-পীড়ন, অগ্নিসংযোগ ও বিমান হামলা চালিয়ে আসছে, যাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই মিন অং হ্লাইং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠতে এবং আসিয়ানে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা জোরদার করেছেন। বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করার পর তিনি এই প্রচেষ্টা আরও বাড়িয়েছেন।

গত মাসে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে মিন অং হ্লাইং বলেন, মিয়ানমার আসিয়ানের সঙ্গে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।

অন্যদিকে, বুধবার ‘স্পেশাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল ফর মিয়ানমার’ (SAC-M)—যেখানে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন—আসিয়ানকে তাদের ফাইভ-পয়েন্ট কনসেনসাস পরিত্যাগের আহ্বান জানায়। তারা সতর্ক করে বলেন, জান্তা সরকার আসিয়ানের নরম অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়াচ্ছে।

SAC-M তাদের বিবৃতিতে জানায়, “বছরের পর বছর জান্তার অপমান সহ্য করার পর আসিয়ানকে বুঝতে হবে—বাঘের গায়ের দাগ বদলায় না।”

সংগঠনটি আরও আহ্বান জানায়, বর্তমানে ফিলিপাইনের নেতৃত্বাধীন আসিয়ান যেন মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে কর্মপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করে, যাতে জান্তা সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা অর্জনের পথ বন্ধ হয়।

এর আগে দেশ-বিদেশের ২০০টির বেশি মিয়ানমারভিত্তিক সুশীল সমাজ সংগঠন আসিয়ানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, নতুন সামরিক-নিয়ন্ত্রিত সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করতে এবং তাদের প্রতিনিধিদের উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক বৈঠক থেকে বাদ দিতে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *