দুর্গম সীমান্তে আলীকদম সেনা জোনের সহায়তায় সম্পন্ন হলো হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি
![]()
নিউজ ডেস্ক
বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলার দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি সীমান্ত এলাকা পাহাড়ভাঙ্গায় শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক সহায়তায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ব্যাপক হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি।
গত ১০ মে থেকে ১২ মে ২০২৬ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর পোয়ামুহুরী ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম জোনের তত্ত্বাবধান, নিরাপত্তা সহায়তা ও সমন্বয়ে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও ব্র্যাক-এর স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। তবে পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থার কারণে যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন, সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয়, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যাতায়াত ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সুষ্ঠুভাবে পুরো কর্মসূচি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

কর্মসূচির আওতায় পুয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বিভিন্ন দুর্গম সীমান্ত এলাকার ৭টি পাড়ায় মোট ২৭৭ জন শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১০২ জন এবং ৬ বছর থেকে ১৫ বছর বয়সী ১৭৫ জন শিশু টিকাসেবার আওতায় আসে।
টিকাদান কার্যক্রম শুরুর আগে স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। এ সময় হাম ও রুবেলা রোগের ঝুঁকি, প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং টিকাদানের গুরুত্ব সম্পর্কে অভিভাবকদের অবহিত করা হলে তাদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া তৈরি হয় এবং সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিশুদের হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হয়েছে। একইসঙ্গে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ফলে স্থানীয় জনগণের মাঝে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা ও ইতিবাচক মনোভাব আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কার্যক্রম চলাকালীন পুরো এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট আর্মি ক্যাম্পসমূহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে সার্বিক কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ বিষয়ে আলীকদম জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান আশিক বলেন, “দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা জনগণের পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণ দুর্গম এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।