কলকাতায় শেষ হলো যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক, মন্তব্য নেই দুই দেশের প্রতিনিধিদের

কলকাতায় শেষ হলো যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক, মন্তব্য নেই দুই দেশের প্রতিনিধিদের

কলকাতায় শেষ হলো যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক, মন্তব্য নেই দুই দেশের প্রতিনিধিদের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

কলকাতায় শেষ হলো বাংলাদেশ- ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ৯০তম বৈঠক। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। তার আগে এটাই ছিল যৌথ নদী কমিশনের সবশেষ বৈঠক। তবে বহুল আলোচিত গঙ্গা চুক্তির পুনর্নবীকরণ নিয়ে বৈঠকের পরও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করলেন না দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
শুক্রবার (২২ মে) কলকাতার নিউটাউনের ফেয়ারফিল্ড ম্যারিয়ট হোটেলে স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে বৈঠক শুরু হয়। চলে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বৈঠক শেষ হলেও সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে একটি কথাও বলেননি কোনো প্রতিনিধি। ফলে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফারাক্কা ব্যারাজ এলাকায় গঙ্গার পানিপ্রবাহ নিয়ে যৌথ পর্যবেক্ষণে নামে দুই দেশের প্রতিনিধিদল। বেনিয়া গ্রামের ঘাটপাড়া মেলা গ্রাউন্ড সংলগ্ন অফিস থেকে গঙ্গার মূল স্রোত, ফারাক্কা ব্যারাজ, ভাগীরথী ও পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি ফিডার ক্যানালেও পানিপ্রবাহের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। তবে এই পর্যবেক্ষণে কী তথ্য উঠে এসেছে, সে বিষয়েও প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি। ভারতীয় প্রতিনিধিরা একে ‘রুটিন অবজারভেশন’ বলেই উল্লেখ করেন।
শুক্রবারের বৈঠকে বাংলাদেশের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জয়েন্ট রিভার কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কাদীর। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন, মো. আবু সৈয়দ, মো. শামসুজ্জামান, মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ ও মো. রুমানুজ্জামান। কূটনৈতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন কিংবা নতুন কাঠামো নিয়ে বৈঠকের আলোচনায় বিষয়টি এসেছে। তবে এখানেই দুই দেশের অবস্থানে স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে।
ভারতের অবস্থান, ফারাক্কা পয়েন্টে বাস্তব পানিপ্রবাহের ওপর ভিত্তি করেই নতুন চুক্তির কাঠামো নির্ধারণ করা উচিত। অন্যদিকে বাংলাদেশের দাবি, শুধু ফারাক্কা নয়, উজান থেকে গঙ্গার মোট প্রবাহের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে পানি ভাগাভাগির নতুন কাঠামো করতে হবে, যাতে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত হয়।
বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেয়। আর প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পায় ৪০ হাজার কিউসেক, বাকি অংশ বাংলাদেশের প্রাপ্য হয়।
কূটনৈতিক মহলের মতে, গঙ্গা পানি চুক্তির পুনর্নবীকরণ এখন শুধু নদীর পানি ভাগাভাগির বিষয় নয়, বরং এটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। নদীর নাব্যতা, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জলপ্রবাহ, পশ্চিমবঙ্গের নদীভাঙন এবং পদ্মার পানির প্রবাহ— সবকিছু মিলিয়ে এই আলোচনার ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে দুই দেশেই।
  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *