ভারত ও পাকিস্তান কি নীরবে সংলাপ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে?

ভারত ও পাকিস্তান কি নীরবে সংলাপ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে?

ভারত ও পাকিস্তান কি নীরবে সংলাপ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে?
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নেতারা ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে দেশটির হওয়া চার দিনের সংঘাতের বার্ষিকী উদ্‌যাপন করেছেন। ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও ছিল উদ্‌যাপনের আমেজ।

আর এই উদ্‌যাপনের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসবলে ভিন্ন ধরনের একটি মন্তব্য করেন। ভারতের একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নয়াদিল্লির উচিত পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপের পথ খোঁজা।

আরএসএসকে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের প্রধান আদর্শিক সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই সংগঠনের মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত।

২০২৫ সালে ভারত ও পাকিস্তান চার দিনের সংঘাতে জড়ায়। ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পর্যটন শহর পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার জেরে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল। উভয় দেশই দাবি করে, তারাই এই সংঘাতে জয়ী হয়েছে।

দত্তাত্রেয় হোসবলে বলেন, ‘আমাদের (আলোচনার) দরজা বন্ধ করা উচিত নয়। আলোচনায় বসার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকা উচিত।’

এ মন্তব্য ভারতে রাজনৈতিক ঝড় তোলে। বিরোধী দলগুলো আরএসএসের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা দাবি করে, এ বক্তব্য মোদির অবস্থানের সঙ্গে স্পষ্টত সাংঘর্ষিক।

কেননা মোদি ও তাঁর সরকার বারবার বলে এসেছে, ‘সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না।’

ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে হামলাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা ও অস্ত্রসহায়তা দিয়ে আসছে পাকিস্তান।

২০২৫ সালে ভারত ও পাকিস্তান চার দিনের সংঘাতে জড়ায়। উভয় দেশই দাবি করে, তারাই এ সংঘাতে জয়ী হয়েছে।

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পর্যটন শহর পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ পর্যটক নিহত হওয়ার জেরে এ সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল।

আমাদের (আলোচনার) দরজা বন্ধ করা উচিত নয়। আলোচনায় বসার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকা উচিত।

দত্তাত্রেয় হোসবলে, সাধারণ সম্পাদক, আরএসএস

দত্তাত্রেয় হোসবলের মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দারাবি বলেন, আলোচনার আহ্বান নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসে কি না, তা দেখার জন্য ইসলামাবাদ অপেক্ষা করবে।

মোদি সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ভারতের আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি আরএসএস নেতার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। এতে এমন ইঙ্গিত মিলছে যে নয়াদিল্লি হয়তো ইসলামাবাদের সঙ্গে আবার আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ শুরু করার জন্য ধীরে ধীরে ভিত্তি তৈরি করছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আবার কূটনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়লেও পূর্ণাঙ্গ সংলাপ আবার শুরু করা সহজ হবে না। যদিও দুই দেশ ইতিমধ্যে নীরবে এ পথে ছোট ছোট পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে।

সংলাপের পক্ষে কণ্ঠ শুধু দত্তাত্রেয় হোসবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।

ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ নারাভানে প্রকাশ্যেই আরএসএস নেতার অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। মুম্বাইয়ে একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে ভারতীয় একটি সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক উন্নত করতে সাহায্য করে।

সীমান্তের ওপার থেকেও এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া এসেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দারাবি বলেছেন, ‘আমরা আশা করি, ভারতে সুস্থ চিন্তাভাবনার জয় হবে এবং যুদ্ধমুখী মনোভাব দূর হবে, যেন এ ধরনের আরও কণ্ঠস্বর সামনে আসতে পারে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আবার কূটনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়লেও পূর্ণাঙ্গ সংলাপ আবার শুরু করা সহজ হবে না। যদিও দুই দেশ ইতিমধ্যে নীরবে এ পথে ছোট ছোট পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে।

যদিও আরএসএস ও বিজেপি এক নয়। আর আরএসএস সরাসরি সরকারেও নেই। তবু মোদিসহ বিজেপির বেশির ভাগ শীর্ষ নেতা দীর্ঘদিন এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ক্ষমতাসীন দলটির জন্য তৃণমূল পর্যায়ে সমর্থন গড়ে তুলতে আরএসএস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় রাজনীতিবিষয়ক অধ্যাপক ইরফান নুরউদ্দিন বলেন, আরএসএস ও ভারতের সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সংলাপের আহ্বান আসার পেছনে একটি কারণ আছে। পাকিস্তানবিরোধী বক্তব্য দিয়ে মোদি সরকার নিজেকে একধরনের কোণঠাসা অবস্থায় নিয়ে গেছে।

ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক এই শিক্ষাবিদ আরও বলেন, মোদি সরকার যদি একতরফাভাবে অবস্থান নরম করে সংলাপ শুরু করে, তাহলে এর জন্য রাজনৈতিকভাবে চড়া মূল্য গুনতে হবে। তাই আরএসএস ও সাবেক সামরিক নেতাদের কাছ থেকে এ ধরনের আহ্বান আসাটা বিজেপির জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। এতে তারা রাজনৈতিক সুরক্ষা পাবে। পরে তারা বলতে পারবে, এটি কোনো রাজনৈতিক ছাড় নয়; বরং সমাজের ভেতর থেকে ওঠা দাবির প্রতিক্রিয়া।

পেছনের প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকদের মতে, সংলাপের এই আহ্বান হুট করে আসেনি।

পাকিস্তানের সাবেক কূটনীতিক জওহর সালিম আল–জাজিরাকে বলেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর গত এক বছরে দুই দেশের সাবেক কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল, গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে প্রায় চারটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জওহর সালিমের ভাষ্যমতে, ‘ট্র্যাক ২’ ও ‘ট্র্যাক ১.৫’ ফরম্যাটে এসব বৈঠক হয়েছে। দায়িত্বরত কয়েকজন কর্মকর্তাও বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। বৈঠকগুলো হয়েছে মাসকাট, দোহা, থাইল্যান্ড ও লন্ডনে।

‘ট্র্যাক ১.৫’ ফরম্যাট বলতে এমন বৈঠককে বোঝায়, যেখানে দুই দেশের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, সামরিক কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অন্যদিকে ‘ট্র্যাক ২’ ফরম্যাটের বৈঠকে দুই দেশের নাগরিক সমাজের সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন। তবে এসব আয়োজন সরকারের নীরব সমর্থন বা অনুমোদন নিয়ে হয়ে থাকে।

দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট থাকলে সরকারগুলো সাধারণত এ ধরনের প্রক্রিয়াকে ‘বরফ গলানোর’ উপায় হিসেবে ব্যবহার করে। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার পরিবেশ আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হয় এসব বৈঠকের মাধ্যমে।

বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, দুই দেশের সম্পর্ক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে।

জওহর সালিম বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এসব বৈঠক বিভিন্ন ইস্যুতে অনানুষ্ঠানিক সংলাপকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। এর লক্ষ্য ছিল বড় ধরনের ভুল–বোঝাবুঝি এড়ানো, পরিস্থিতি যাচাই করা। এগুলো হয়তো ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের পথ তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ প্রায় ছিলই না।’

পাকিস্তানের সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত তারিক রশিদ খান মনে করেন, এসব সংলাপ কূটনৈতিক অগ্রগতি নয়; বরং যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় একটি ভিত্তি।

তারিক রশিদ আল–জাজিরাকে বলেন, ট্র্যাক-১.৫ ও ট্র্যাক-২ সংলাপ কখনোই আনুষ্ঠানিক কূটনীতির বিকল্প নয়; বরং এগুলো একধরনের ‘সেফটি ভাল্‌ভ’।

এ ধরনের যোগাযোগের খবর নিয়ে সম্প্রতি সরাসরি প্রশ্ন করা হলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। এক ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দারাবি বলেন, তিনি যদি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, তাহলে আর কোনো ‘ব্যাকচ্যানেল’ থাকবে না।

পরিবর্তিত সমীকরণ

২০২৫ সালের ১০ মে যুদ্ধবিরতির পর থেকে বদলে যাওয়া এক প্রেক্ষাপটে এই নীরব যোগাযোগগুলো এগোচ্ছে।

এই সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের অবস্থানের স্পষ্ট পরিবর্তন হয়েছে। পাকিস্তানি বাহিনীর প্রধান আসিম মুনির সেই সংঘাতের সময় তাঁর দেশের সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আসিম মুনির ২০২৬ সালের এপ্রিল নাগাদ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় ব্যক্তিগতভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

গত ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে ১৯৭৯ সালের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ জন্য প্রকাশ্যে একাধিকবার আসিম মুনির ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে কৃতিত্ব দেন।

এদিকে বাণিজ্য শুল্ক ও অভিবাসন নীতির কারণে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক চাপের মুখে আছে। ফলে পাকিস্তান-সংক্রান্ত আঞ্চলিক নীতিতে ওয়াশিংটনের ওপর ভারতের নির্ভরতার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিবর্তনের প্রভাব ভারতের ওপর পড়েছে। যদিও নয়াদিল্লি এখনো তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় রাজনীতিবিষয়ক অধ্যাপক ইরফান নুরউদ্দিন বলেন, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। ওয়াশিংটনে প্রভাবের ক্ষেত্রে ভারত এখন আগের শীর্ষ সুবিধাজনক অবস্থান হারিয়েছে। আর পাকিস্তান দক্ষতার সঙ্গে আবার যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ অবস্থানে ফিরে এসেছে। আগে যখন ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সম্পর্ক তৈরি হচ্ছিল, তখন নয়াদিল্লি সহজেই ইসলামাবাদকে উপেক্ষা করতে পারত। কিন্তু এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই।

তবে পাকিস্তানের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা তারিক রশিদ খান সাম্প্রতিক এসব ইঙ্গিতের গুরুত্ব অতিরঞ্জিত না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই নীরব ইঙ্গিতগুলো হঠাৎ পুনর্মিলনের চেয়ে বাস্তবতাবোধের প্রতিফলন বেশি।

গভীর বিভাজন

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তারিক রশিদ খানের সংশয়কে আরও জোরালো করেছে।

১৬ মে নয়াদিল্লির মানেকশ সেন্টারে আয়োজিত এক বেসামরিক-সামরিক অনুষ্ঠানে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, ইসলামাবাদ যদি ‘সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালানো’ অব্যাহত রাখে, তাহলে পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা ‘ভূগোলের অংশ হয়ে থাকতে চায়, নাকি ইতিহাসের অংশ হয়ে যেতে চায়’।

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ভারতের সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে ‘অহংকারী, যুদ্ধোন্মাদ ও সংকীর্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন’ বলে আখ্যা দেয়।

পাকিস্তানের আইএসপিআর সতর্ক করে বলে, একটি পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দেওয়াটা চিন্তাশক্তির দেউলিয়াত্বের প্রকাশ।

এদিকে আন্তর্জাতিক আদালতের একটি রায়েও দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

১৫ মে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আদালত সিন্ধু নদ অববাহিকায় ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর জলাধার ধারণক্ষমতার সীমা নিয়ে একটি রায় দেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

পাকিস্তান স্বাভাবিকভাবেই এই রায়কে স্বাগত জানায়। অন্যদিকে ভারত সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করে। তারা দাবি করে, এই ট্রাইব্যুনাল ‘অবৈধভাবে গঠিত’। এর সিদ্ধান্ত ‘অকার্যকর ও বাতিল’।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগামে হামলার পর নয়াদিল্লি সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করেছিল। সেটি এখনো স্থগিতাবস্থায় আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিবেদী ও আইএসপিআরের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, দুই দেশের সম্পর্ক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে।

সাবেক পাকিস্তানি কূটনীতিক জওহর সালিম আল–জাজিরাকে বলেন, ভারতের কৌশলগত পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের মাত্রা নিয়ে বিতর্ক চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, আনুষ্ঠানিক সংলাপের দিকে এগোনোর যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু সেই পদক্ষেপ নেওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা এখনো স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে না।

-প্রথম আলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *