সংঘাতময় এলাকায় যৌন সহিংসতা, জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরাইল-রাশিয়া

সংঘাতময় এলাকায় যৌন সহিংসতা, জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরাইল-রাশিয়া

সংঘাতময় এলাকায় যৌন সহিংসতা, জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরাইল-রাশিয়া
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

সংঘাতময় এলাকায় অব্যাহত যৌন সহিংসতার ঘটনায় ইসরাইল ও রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীকে জাতিসংঘের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর এএফপির।

জাতিসংঘ প্রতি বছর এই তালিকা প্রকাশ করে থাকে। এতে সুদান, হাইতি, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, মিয়ানমার, সিরিয়া ও মালির মতো দেশগুলোতে “পদ্ধতিগতভাবে” যৌন সহিংসতায় জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ থাকা রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় বহু গোষ্ঠীর নাম অন্তর্ভুক্ত থাকে।

গত আগস্টে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস ইসরাইল ও রাশিয়াকে সতর্ক করেছিলেন যে তাদেরও এই তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে। সতর্কবার্তার পরও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘যৌন সহিংসতার ঘটনা ও ধারাবাহিকতার তথ্য জাতিসংঘের কাছে আসতেই থাকে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশেই তদন্ত চালাতে গিয়ে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা “অবিরাম প্রবেশাধিকার না পাওয়ার” সমস্যার মুখে পড়েছেন। ইসরাইল প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০২৫ সালেও ইসরাইল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে আটক ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ধারাবাহিক ঘটনা নথিভুক্ত হতে থাকে।’

জাতিসংঘ জানায়, তারা যেসব ঘটনা যাচাই করেছে তা বহু বছরের প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়, তবে ইসরাইলি আটককেন্দ্রে প্রবেশাধিকার না থাকায় এগুলো পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়।

ফলে ২০২৫ সালে জাতিসংঘ ২০২৩ সাল থেকে সংঘটিত একাধিক যৌন সহিংসতার ঘটনা নিশ্চিত করেছে। এসবের মধ্যে নির্যাতনের অংশ হিসেবে যৌন সহিংসতাও ছিল। ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন ১৪ জন পুরুষ, ৭ জন নারী, ৯ জন কিশোর ও ১ জন কিশোরী, যারা গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরের বাসিন্দা।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করে ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, যৌনাঙ্গে শারীরিক নির্যাতন, জোরপূর্বক নগ্ন করা এবং ‘নিরাপত্তাজনিত কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই’ দেহ তল্লাশি। জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার সঙ্গে ইসরাইলি সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী ও কারা বিভাগের সদস্যরা জড়িত।

ইসরাইল এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক ও অযৌক্তিক বলে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, হামাসের সঙ্গে ‘কৃত্রিম সমতা’ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যদিও হামাস আগে থেকেই এই তালিকায় রয়েছে।

জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ডানোন এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আমরা এই মহাসচিবের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করেছি।’ তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত মহাসচিবের দফতরের সঙ্গে ইসরাইল সম্পর্ক ‘স্থগিত’ রাখবে।

তিনি আরও দাবি করেন, জাতিসংঘকে তদন্তে বাধা দেয়া হয়নি। বরং তাদের প্রতিনিধিদের ইসরাইলে তদন্তে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু ‘তারা আসেনি; তারা ইসরাইলবিরোধী প্রচারণাই চালিয়ে গেছে।’

রাশিয়া প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চল এবং রাশিয়ার ভেতরে যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসবের সঙ্গে রুশ সশস্ত্র বাহিনী ও কারা বিভাগের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধবন্দিরা মুক্তি পাওয়ার পর এ ধরনের নির্যাতনের সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ইউক্রেনে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাতসংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ৩১০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণ, যৌনাঙ্গ বিকৃত করা এবং বৈদ্যুতিক শক দেয়ার মতো নির্যাতন রয়েছে, যার বেশিরভাগ ভুক্তভোগী পুরুষ।

যদিও ইউক্রেন এই কালো তালিকায় নেই, তবুও দেশটির বিরুদ্ধেও সমালোচনা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত যৌন সহিংসতার ৩১টি ঘটনা পাওয়া গেছে, বিশেষ করে যুদ্ধবন্দিদের বিরুদ্ধে।

তবে অধিকাংশ ঘটনাই ২০২৫ সালের আগের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন সরকার আইন আরও কঠোর করেছে এবং জাতিসংঘকে তদন্তের অনুমতিও দিয়েছে।

সামগ্রিকভাবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সংঘাতসংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতা ‘উল্লেখযোগ্য হারে’ বেড়েছে। এসব সহিংসতা ‘চরম নৃশংসতায় ভরা’ এবং এর প্রধান শিকার নারী ও কিশোরীরা।

এর আগে ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া এবং ২০২৪ সাল থেকে ইসরাইল সংঘাতে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে প্রকাশিত জাতিসংঘের আরেকটি বহুল আলোচিত ‘লজ্জার তালিকাতেও’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *