‘গরু পশু নয়, মা হিসেবে পূজনীয়’, গোহত্যা করলে চরম পরিণতি: যোগী আদিত্যনাথ

‘গরু পশু নয়, মা হিসেবে পূজনীয়’, গোহত্যা করলে চরম পরিণতি: যোগী আদিত্যনাথ

‘গরু পশু নয়, মা হিসেবে পূজনীয়’, গোহত্যা করলে চরম পরিণতি: যোগী আদিত্যনাথ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

গরুকে যারা নিছক পশু মনে করেন, তাদের কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সোমবার তিনি বলেন, ভারতীয় ঐতিহ্যে গরু মা হিসেবেই পূজনীয়।

এ সময় এই বিজেপি নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘গোমাতার’ প্রতি যাতে কোনো অসম্মান প্রদর্শন করা না হয়, সে বিষয়ে মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের উচিত তাদের অনুসারীদের সতর্ক করা।

সম্প্রতি গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবিতে ভারতের বেশ কিছু ধর্মীয় নেতা সরব হয়েছেন। জমিয়ত উলেমা-এ-হিন্দের সভাপতি মৌলানা আরশাদ মাদানি ও আরও কিছু মুসলিম সংগঠন গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি তুলেছিল। অনেক জায়গায় বিক্ষোভও হয়েছে।

সোমবার এক সরকারি অনুষ্ঠানে সেই প্রসঙ্গ টেনে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ‘মায়ের সম্মান রক্ষার কথা কোনো সন্তানকে আলাদা করে শিখিয়ে দিতে হয় না। এ দেশের মানুষ নিজের মা এবং গরুকে সমান শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। যারা গরুকে পশু বলেন, তারা আদতে গো-হত্যাকেই সমর্থন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘গরু আমাদের মাতা। তিনি নিছক কোনো পশু নন। গোমাতাকে পশু আখ্যা দিলে বুঝতে হবে আপনাদের মানসিকতাই পাশবিক। গোমাতা আমাদের “রাষ্ট্র মাতা”। এর জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রয়োজন নেই।’

এ সময় যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ‘আজকাল অনেক মৌলবি ও মাওলানা গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি তুলছেন। কিন্তু আমরা বলি, গরু আমাদের মাতা। তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক জন্মান্তরের।’

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গরুর মর্যাদা ঠিক কী, তা নিয়ে “আক্রান্তা”দের (আক্রমণকারী) থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধ এবং ঐতিহ্য রয়েছে। আমরা সর্বদা গরুকে মাতা হিসাবেই সম্মান করে এসেছি।’

গরু ইতিমধ্যেই ‘স্বঘোষিত রাষ্ট্রমাতা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর জন্য কারও কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই।

ঈদুল আজহায় শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা গরুর ছবি দিচ্ছেন, তাদেরও হুমকি দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। এ ধরনের ‘প্ররোচনামূলক’ কাজ থেকে অনুসারীদের বিরত রাখতে ধর্মীয় নেতাদেরই উদ্যোগী হতে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছি, বকরি-ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় গোমাতার ছবি পোস্ট করেছেন। তাদের বোঝা উচিত, উত্তরপ্রদেশে গোহত্যার অর্থ ঠিক কী। কেউ এই ধরনের কাজ করার চেষ্টা করলে তাকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

ওই অনুষ্ঠানে পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে আসা ১ হাজার ৬৪৫টি পরিবারকে জমির মালিকানার সনদ তুলে দেন আদিত্যনাথ। তার দাবি, ‘দেশভাগের সময় ধর্মীয় কট্টরপন্থার জেরে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। নির্দোষ হিন্দু ও শিখদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।’

এ সময় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) পাশের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রশংসা করেন যোগী আদিত্যনাথ। তিনি দাবি করেন, এ আইনের ফলেই পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় ‘নিপীড়নের’ কারণে পালিয়ে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও জৈনরা ভারতে পাঁচ বছরের বেশি সময় বসবাস করলে নাগরিকত্ব পাবেন।

সিএএর বিরোধিতা করায় বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনা করে এই বিজেপি নেতা বলেন, বিরোধীরা আসলে বেআইনি অনুপ্রবেশকেই মদত দিচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *