রাখাইনে নৌঘাঁটি ঘিরে তীব্র সংঘর্ষ, সিত্তওয়ে ও কিয়াউকফিউতে চাপে মিয়ানমার জান্তা

রাখাইনে নৌঘাঁটি ঘিরে তীব্র সংঘর্ষ, সিত্তওয়ে ও কিয়াউকফিউতে চাপে মিয়ানমার জান্তা

রাখাইনে নৌঘাঁটি ঘিরে তীব্র সংঘর্ষ, সিত্তওয়ে ও কিয়াউকফিউতে চাপে মিয়ানমার জান্তা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অবশিষ্ট এলাকাগুলো দখলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়ার দাবি করেছে আরাকান আর্মি (এএ)। এরই মধ্যে সিত্তওয়ে ও কিয়াউকফিউয়ে অবস্থিত মিয়ানমার নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

বাসিন্দাদের মতে, সিত্তওয়ের দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপসাগর ও কালাদান নদীতে অবস্থানরত জান্তা বাহিনীর নৌযানগুলোর সঙ্গে এএ যোদ্ধাদের ব্যাপক গোলাবিনিময় চলছে। একই সঙ্গে এএ বাহিনী সিত্তওয়ের উত্তরে অবস্থিত কিয়ার মা থাউক গ্রামের কাছে একটি সামরিক ঘাঁটি এবং শ্বে মিন গান নৌ-সহায়তা ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে যুদ্ধজাহাজ থেকে গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে।

সিত্তওয়ের এক বাসিন্দা দ্য ইরাবতীকে বলেন, “এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চলছে। রাতে অবিরাম গোলার শব্দ শোনা যায়। বিভিন্ন দিক থেকে এএ বাহিনী হামলা চালাচ্ছে।”

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অন্তত একটি নৌযান আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। ফলে যুদ্ধজাহাজগুলো এখন উপকূল থেকে দূরে অবস্থান করছে এবং নদীপথে তাদের উপস্থিতি সীমিত করেছে। চলতি বছরের শুরু থেকে শ্বে মিন গান এলাকার আশপাশের কয়েকটি সামরিক চৌকি এএ দখল করেছে এবং এখনও হামলা অব্যাহত রেখেছে।

এক বাসিন্দা বলেন, “যখন বিমান হামলা থাকে না, তখন সংঘর্ষ খুবই তীব্র হয়। বিমান এলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে যায়।”

শ্বে মিন গান সিত্তওয়ে ও পন্নাগিউন টাউনশিপের সীমান্তবর্তী কালাদান নদীর তীরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি। অন্যদিকে কিয়ার মা থাউক গ্রামটি জান্তা বাহিনীর সিত্তওয়ে আঞ্চলিক অপারেশন কমান্ডের কাছাকাছি।

সিত্তওয়ের পিই তাও থার ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, শহরে প্রবেশের নদীপথগুলোতে সামরিক বাহিনী বাঙ্কার ও স্থলমাইন স্থাপন করেছে। এক নারী বাসিন্দা বলেন, “নদীর তীরবর্তী পুরো সড়কজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে তারা দীর্ঘ অবরোধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

এদিকে, চীনের অর্থায়নে পরিচালিত বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পসমৃদ্ধ কিয়াউকফিউ টাউনশিপেও তীব্র লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে এএ বাহিনী তাউং মাও উ নৌঘাঁটি থেকে সানায়ে শহরের দিকে অগ্রসরমান জান্তা সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, নৌঘাঁটি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে জান্তা বাহিনীর কয়েক ডজন সেনা নিহত হয়েছে। এএর ঘনিষ্ঠ এক সূত্র দ্য ইরাবতীকে জানায়, “২৯ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত ভয়াবহ লড়াই হয়েছে। অন্তত ৪০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছে, যার মধ্যে একজন ক্যাপ্টেনও রয়েছেন।”

সূত্রটি আরও জানায়, এএর হামলার মুখে জান্তা বাহিনী তাউং মাও উ নৌঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। ঘাঁটিটি বর্তমানে ১১তম লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন এবং দান্যাওয়াদি নৌ সদর দপ্তরের সদস্যদের মাধ্যমে শক্তিশালী করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, কিছু সামরিক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নৌপথে কিয়াউকফিউ শহরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন-৩৪ থেকে নতুন সেনা সদস্যদেরও নৌপথে সেখানে আনা হচ্ছে।

ত্রাণকর্মীরা জানিয়েছেন, তাউং মাও উ নৌঘাঁটির আশপাশের গ্রামগুলোতে সামরিক বাহিনী ড্রোন ও গাইরোকপ্টার হামলা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে কিয়াউকফিউ এলাকায় ৮ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং তারা জরুরি খাদ্য ও আশ্রয় সহায়তার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে রয়েছে।

এক ত্রাণকর্মী বলেন, “প্রতিদিন বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। দেশে ও বিদেশে বসবাসরত রাখাইন জনগোষ্ঠীর দেওয়া অনুদানের অর্থ দিয়ে আমরা তাদের সহায়তা করছি।”

বর্তমানে আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি তারা চিন রাজ্যের সীমান্তবর্তী পালেতওয়া টাউনশিপও নিয়ন্ত্রণ করছে।

আরাকান আর্মির প্রধান টুন মিয়াত নাইং ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে অবশিষ্ট তিনটি টাউনশিপ—সিত্তওয়ে, কিয়াউকফিউ ও মানাউং—দখল করা হবে। তিনি “চূড়ান্ত বিজয়” অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *