ধর্মান্তরবিরোধী আইন স্থগিতের দাবিতে অরুণাচল সরকারকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম খ্রিস্টান ফোরামের
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ধর্মান্তরবিরোধী আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অরুণাচল ক্রিশ্চিয়ান ফোরাম (এসিএফ) রাজ্য সরকারের কাছে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে আইনটির আওতায় বিধিমালা প্রণয়ন ও জারি করার প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে। দাবি না মানলে রাজ্যজুড়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন, বিক্ষোভ সমাবেশ এবং এমনকি বন্ধ কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর কাছে জমা দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসিএফ জানায়, ১৯৭৮ সালের অরুণাচল প্রদেশ ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন অ্যাক্ট (এপিএফআরএ) কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার যে বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, তার প্রতি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, আইনটি বাস্তবায়িত হলে তা সাংবিধানিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, এপিএফআরএ-১৯৭৮ সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার জন্য গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির (এইচপিসি) সাম্প্রতিক কার্যক্রম অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে পরিচালিত হয়েছে, যা রাজ্যের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
এসিএফ অভিযোগ করে, ধর্মীয় সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও সরকার পর্যাপ্ত পরামর্শ ছাড়াই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর বলে মনে হচ্ছে।
সংগঠনটির মতে, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আন্তঃসম্প্রদায়িক সম্পর্কের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা ও অর্থবহ সংলাপ হওয়া প্রয়োজন।
তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, সর্বসম্মত মতামত ছাড়া বিধিমালা জারি ও বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে রাজ্যে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা ও অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
স্মারকলিপিতে এসিএফ সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছে। এগুলো হলো— এপিএফআরএ-১৯৭৮-এর আওতায় বিধিমালা প্রণয়ন ও জারির পুরো প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করা, কোনো বিধিমালা জারি বা কার্যকর না করার নিশ্চয়তা দেওয়া এবং আইনটি বাতিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা শুরু করে সরকারিভাবে চলমান প্রক্রিয়া বন্ধ ঘোষণা করা।
সংগঠনটি স্মারকলিপি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সরকারের আনুষ্ঠানিক জবাবও চেয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং সম্ভাব্য বন্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এসিএফ।
সংগঠনটির ভাষ্য, এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য হবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা, একই সঙ্গে রাজ্যে শান্তি, মৌলিক অধিকার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন অরুণাচল ক্রিশ্চিয়ান ফোরামের সভাপতি জেমস তেচি তারা, সাধারণ সম্পাদক ইয়োমরিক লোম্বি এবং জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নাবাম নিবা হিনা।
স্মারকলিপির অনুলিপি অরুণাচল প্রদেশের রাজ্যপাল, মুখ্য সচিব এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে প্রণীত অরুণাচল প্রদেশ ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন অ্যাক্টের ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল বলপ্রয়োগ, প্রলোভন বা প্রতারণার মাধ্যমে ধর্মান্তর রোধ করা। তবে প্রয়োজনীয় বিধিমালা না থাকায় আইনটি দীর্ঘদিন কার্যত অকার্যকর ছিল। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের বিধিমালা প্রণয়ন ও জারির উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আইনটি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক, আইনি ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে এ উদ্যোগের পক্ষে ও বিপক্ষে মতামত উঠে আসছে।
প্রসঙ্গত, অরুণাচল প্রদেশে ধর্মীয় পরিচয়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এপিএফআরএ বাস্তবায়ন ঘিরে সাম্প্রতিক এই বিরোধ রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।