জেল থেকে আসামিদের বের করে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের

জেল থেকে আসামিদের বের করে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের

জেল থেকে আসামিদের বের করে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের এক মাস পেরোতে না পেরোতেই সীমান্ত রাজনীতিতে নতুন এবং চাঞ্চল্যকর মোড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

একদিকে নির্বাচনের আগে দেওয়া অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারীর ‘অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গা তাড়ানোর’ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জোর দাবি উঠেছে, অন্যদিকে সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় আচার— নামাজ ও কোরবানি বন্ধ করা এবং বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সমালোচকদের মতে, কোনো গঠনমূলক কাজের বদলে নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক সন্তুষ্ট রাখতেই সরকার এ ধরনের রাজনীতির আশ্রয় নিচ্ছে। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবরটি উঠে আসছে সীমান্ত এলাকা থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, প্রতিশ্রুতি মতো পর্যাপ্ত বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী খুঁজে না পেয়ে এবার অভিনব কৌশল নিয়েছে প্রশাসন। জনতার মন রক্ষা করতে কারাবন্দি আসামিদের জেল থেকে বের করে সীমান্ত এলাকায় জড়ো করা হচ্ছে এবং অত্যন্ত গোপনে তাদের বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করার চেষ্টা চলছে। যদিও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এ ধরনের পদক্ষেপ কঠোর হাতে রুখে দিচ্ছে। ফলে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বিজিবির মধ্যে তৈরি হচ্ছে তীব্র উত্তেজনা। ওই সূত্রের আরো দাবি, পুশ ইন করতে ব্যর্থ হলে কয়েকদিন পর সেই আসামিদের পুনরায় লোকালয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

এই সীমান্ত উত্তেজনার সমান্তরালেই উঠে আসছে আরো কিছু গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের তথ্য। একদিকে শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠরা ভারতের নিউটাউন বা দিল্লির মতো জায়গায় নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন, অন্যদিকে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়েছেন এক প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নয়াদিল্লি এই মুহূর্তে বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে ফেরাতে তৎপর না হলেও সীমান্ত দিয়ে কিছু প্রশিক্ষিত চরকে সে দেশে অনুপ্রবেশ করানো হচ্ছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ।

ওই প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিস্ফোরক দাবি, অমিত শাহের নেতৃত্বে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর প্রচ্ছন্ন সমর্থনে বাংলাদেশের চট্টগ্রামকে আলাদা করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরির গোপন নীলনকশাও প্রস্তুত করা হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অস্থিরতার সরাসরি বলি হচ্ছেন সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সীমান্তবাসী বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ। এত রাজনীতি বুঝি না। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে সীমান্তে যেভাবে বিএসএফ ও বিজিবির তৎপরতা বেড়েছে এবং অজানা লোকজনের আনাগোনা দেখছি, তাতে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও চাষাবাদ পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে। সারাক্ষণ আতঙ্কের পরিবেশ কাজ করছে।’

এই নতুন রাজনৈতিক কৌশল এবং ভূ-রাজনৈতিক পদক্ষেপ আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ঠিক কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *