৩ লাখ টাকা ঘুস না দেওয়ায় পুশ-ইন করেছে বিএসএফ: ভারতীয় নারী

৩ লাখ টাকা ঘুস না দেওয়ায় পুশ-ইন করেছে বিএসএফ: ভারতীয় নারী

৩ লাখ টাকা ঘুস না দেওয়ায় পুশ-ইন করেছে বিএসএফ: ভারতীয় নারী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

তিন লাখ টাকা ঘুস দিতে না পারায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এক নারী ও তার ছেলেকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা হলেন ভারতীয় নাগরিক সুইটি বিবি (৪০) এবং তার দুই ছেলে কুরবান দেওয়ান (১৫) ও ইমাম দেওয়ান (৬)। বর্তমানে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়াগোলায় এলাকায় অবস্থান করছেন।

কথা বলে জানা যায়, ভারতের দিল্লিতে ইটভাটায় কাজ করার সময় নারী ও শিশুসহ মোট ছয়জনকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে গ্রেফতার করে ভারতীয় পুলিশ। পরে বিএসএফ তাদের কুড়িগ্রাম সীমান্তের জঙ্গল দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসময় তাদের কাছে তিন লাখ টাকা করে ঘুস দাবি করা হয়। ঘুস দিতে না পারায় তাদের জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়।

পুশ-ইনের পর তারা প্রায় ১০ দিন জঙ্গলে ঘুরে ঢাকায় অবস্থান করেন। পরে কোনো আশ্রয় না পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে আসেন। এরপর ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট তাদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশের পুলিশ। পরবর্তীতে তিন মাস ১০ দিন কারাভোগের পর বর্তমানে তারা জেলার নয়াগোলা এলাকায় একজনের জিম্মায় রয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়াগোলায় এলাকায় জাগো নিউজের সঙ্গে কথা হয় পুশ-ইনের শিকার ভারতীয় নারী সুইটি বিবি এবং তার ছেলে কুরবান দেওয়ানের সঙ্গে।

সুইটি বিবি বলেন, ‌‘আমার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারই থানায়। জীবিকার তাগিদে দিল্লিতে গিয়েছিলাম কাজের জন্য। হঠাৎ সেখান থেকে আমাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তিন দিন থানায় রাখা হয়।’

তিনি বলেন, ‘পরে বাংলা ভাষায় কথা বলা এবং মুসলিম পরিচয়ের কারণে আমাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন ও হয়রানি। মারধর করে বাংলাদেশি প্রমাণের চেষ্টা করা হয়।’

৩ লাখ টাকা ঘুস না দেওয়ায় পুশ-ইন করেছে বিএসএফ: ভারতীয় নারী

সুইটি বিবি আরও দাবি করেন, তারা জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক। তাদের কাছে আধার কার্ডসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরিচয়পত্র রয়েছে। এসব কাগজপত্র দেখার পরও বিএসএফ তাদের কাছে তিন লাখ টাকা করে ঘুস দাবি করে। তবে এত টাকা না থাকায় তারা দিতে পারেননি। এজন্য কুড়িগ্রামের একটি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়। এসময় পেছনে তাকালেই গুলি করে দেবো বলতে থাকে বিএসএফ। ভয়ে আর পেছনে তাকাননি।

‘জাঙ্গলেই কেটেছে ১০ দিন। কিছুই খেতে পাইনি। নদীর পার হয়ে ঢুকলাম বাংলাদেশে। হঠাৎ কুড়িগ্রামের একটি সীমান্তে গ্রামে এসে খাবার পেয়েছি। পরে আবারও সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। বাংলাদেশে এসে ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন কাজ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কেউ কাজ দেয়নি। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ১০০ দিন কারাভোগের পরে এখনো বাংলাদেশেই রয়েছি। এখন আমরা ভারতে ফেরত যেতে চাই। কিন্তু কোনো উপায় পাচ্ছি না। তাই ডিসি অফিসে গিয়েছিলাম।’

সুইটি বিবির ১৫ বছর বয়সী সন্তান কোরবান আলীর ভাষ্য, সীমান্ত এলাকায় তাদের ওপর বিএসএফ সদস্যরা মারধর করেন। দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকতে হয়েছে।

কোরবান আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তে আটক অবস্থায় তাদের কোনো ধরনের মানবিক সুবিধা দেওয়া হয়নি। খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত রেখে রাখা হয় বলেও সে দাবি করে।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা বলেন, ‘এসব ভারতীয় নাগরিককে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সবসময় চেষ্টা ছিল। কূটনৈতিক চ্যানেলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। ভারত তাদের কেন ফেরত নিচ্ছে না তা তারাই জানে।’

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *