মুরুং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়তে সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার, আলীকদমে রিজিয়ন কমান্ডারের মতবিনিময়
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তার, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বান্দরবানের আলীকদমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মুরুং জনগোষ্ঠীর শিক্ষার প্রসার, আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি এবং নতুন শিক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবনা উঠে আসে।
শনিবার (২০ জুন) আলীকদমের মুরুং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক এবং আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আলম।
এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

মতবিনিময় সভায় আলীকদমের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও জীবনমানের সামগ্রিক চিত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় মুরুং কমপ্লেক্সের বর্তমান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে মুরুং কমপ্লেক্সের ছাত্রাবাসে ১২৪ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছে। তবে পাহাড়ের দুর্গম এলাকা থেকে আরও অনেক শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ছাত্রাবাসের ধারণক্ষমতা ২০০ থেকে ২৫০ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে রিজিয়ন কমান্ডার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়নের স্বার্থে অতিরিক্ত দুইজন শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সভায় তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের পাঠদান আরও কার্যকর ও মানসম্মত করতে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন রিজিয়ন কমান্ডার।

সভায় কুরুকপাতা ইউনিয়নে নতুন একটি মুরুং কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
স্থানীয়দের দাবি, নতুন কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্গম এলাকার বহু শিক্ষার্থী শিক্ষার সুযোগ পাবে। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন রিজিয়ন কমান্ডার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষাই পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি। মুরুং জনগোষ্ঠীসহ পার্বত্য এলাকার সকল মানুষের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মূল ভিত্তি। সে লক্ষ্যেই সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষা সহায়তা, আবাসিক সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

সভায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা মুরুং জনগোষ্ঠীর শিক্ষা বিস্তার এবং সামাজিক অগ্রগতিতে মুরুং কমপ্লেক্সের অবদানের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ অনেক শিক্ষার্থীর জীবন পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে কমপ্লেক্সটির অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে মুরুং কমপ্লেক্সের মতো উদ্যোগগুলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যকর অবদান রাখছে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন সময় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, চিকিৎসা সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তাসহ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আলীকদমের মুরুং কমপ্লেক্স সেই দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রচেষ্টার একটি সফল ও প্রশংসিত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।