আয়কর নীতি ও পার্বত্য উন্নয়ন নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন দীপেন দেওয়ান, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান

আয়কর নীতি ও পার্বত্য উন্নয়ন নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন দীপেন দেওয়ান, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান

আয়কর নীতি ও পার্বত্য উন্নয়ন নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন দীপেন দেওয়ান, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় দেওয়া বক্তব্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়কর নীতি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

শনিবার (২০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, গত ১৮ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার আয়কর-সংক্রান্ত সংশোধনী বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, সংসদে উত্থাপিত অর্থ বিলে “উপজাতি” জনগোষ্ঠীর আয়কর সুবিধা সংশোধনের যে প্রস্তাব ছিল, তিনি সেখানে পূর্বের কর অব্যাহতির সুবিধা বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (আইনে ব্যবহৃত “Indigenous Hillman” বা “উপজাতি”) জন্য আয়কর অব্যাহতির যে ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা ১৯২২ সালের আয়কর আইন থেকে শুরু হয়ে ১৯৮৪ সালের অধ্যাদেশ এবং ২০২৩ সালের আইনে বজায় রয়েছে, তা অব্যাহত রাখার পক্ষে তিনি সংসদে মত দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে দীপেন দেওয়ান বলেন, সংসদে ব্যবহৃত শব্দচয়ন ও টার্মিনোলজি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী অর্থ বিলে ব্যবহৃত নির্ধারিত শব্দই তিনি ব্যবহার করেছেন এবং বিষয়টি জাতিগত পরিচয় নির্ধারণের বিতর্ক ছিল না, বরং বাজেট-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট আলোচনার অংশ ছিল।

তিনি আরও বলেন, কিছু মহল তাঁর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এ ধরনের অস্থিরতা না ছড়ানোর জন্য তিনি সকলকে অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে, নিজের বক্তব্যে তিনি দাবি করেন যে অর্থ বিলে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি জনগোষ্ঠীর বিষয়ে কোনো উল্লেখ না থাকায় সে বিষয়ে আলোচনার সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, তিনি সকল জনগোষ্ঠীর ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং রাঙামাটির উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন।

দীপেন দেওয়ান তাঁর পোস্টে আরও জানান, কাপ্তাই হ্রদ থেকে আহরিত মৎস্য সম্পদ পরিবহন এবং পার্বত্য জেলা থেকে কাঠ পরিবহনের ওপর প্রস্তাবিত উৎস কর আরোপের বিষয়েও তিনি বিরোধিতা করেছেন। তাঁর ভাষায়, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব প্রস্তাব প্রাথমিক পর্যায়েই প্রত্যাহারে ভূমিকা রাখা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতো এবং এর বড় সুবিধাভোগী হতো স্থানীয় বাণিজ্যিক অংশীদাররা, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাঙালি ব্যবসায়ী রয়েছেন।

শেষে তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য ও অবস্থান নিয়ে যেসব বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে তা দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন এবং রাঙামাটিবাসীর প্রতি শান্তি, উন্নয়ন ও সুস্বাস্থ্যের কামনা জানান।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *