সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মহালছড়িতে ২ লাখ ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের মহাযজ্ঞ শুরু
![]()
নিউজ ডেস্ক
পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। “সুন্দর-সুশৃঙ্খল ও একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে” গ্রহণ করা এ কর্মসূচির আওতায় মহালছড়ি জোন এলাকায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হবে।
সোমবার (২২ জুন) মহালছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বৃহৎ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় মহালছড়ি উপজেলার ৪নং মাইসছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি মুসলিমপাড়াস্থ মুন্সি আব্দুর রউফ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফ।
এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। উদ্বোধনী দিনে প্রায় ৫০০টি চারা রোপণ করা হয়।
জানা গেছে, পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, ভূমিক্ষয় প্রতিরোধ, বনাঞ্চল সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফলজ বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী দিনের পাশাপাশি একই দিনে মহালছড়ি উপজেলার শিশু মঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়, লেমুছড়ি শান্তিপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চৌংড়াছড়ি শহীদ ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের উচ্চ বিদ্যালয়েও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
পর্যায়ক্রমে মহালছড়ি জোনের দায়িত্বপূর্ণ পাঁচটি ইউনিয়নের ১৭টি পাড়ায় স্থানীয় বাঙ্গালি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণের অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফ বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আজ যে চারাগুলো রোপণ করা হচ্ছে, সেগুলো ভবিষ্যতে একটি সবুজ, নিরাপদ এবং বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রতিটি চারার যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে বৃক্ষ আচ্ছাদন বৃদ্ধি পেলে ভূমিধসের ঝুঁকি কমবে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ পাবে। এ লক্ষ্য অর্জনে তিনি স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

স্থানীয় শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কর্মসূচি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ফলজ গাছের মাধ্যমে ভবিষ্যতে স্থানীয় জনগণ আর্থিকভাবেও উপকৃত হবেন।
উল্লেখ্য, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। মহালছড়িতে ২ লাখ ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।