যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে বাতিল ও অবসরপ্রাপ্ত যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত

যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে বাতিল ও অবসরপ্রাপ্ত যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত

যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে বাতিল ও অবসরপ্রাপ্ত যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে বাতিল ও অবসরে যাওয়া জাগুয়ার যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত। নিজেদের যুদ্ধবিমানের বহর সচল রাখতে অবসরপ্রাপ্ত ও পরিষেবা থেকে সরিয়ে নেয়া এই মডেলের ৯টি যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। অবশ্য বিমানগুলো সরাসরি উড্ডয়নের জন্য নয়, বরং যন্ত্রাংশ ও পুনঃব্যবহারযোগ্য উপাদান সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হবে।

স্কোয়াড্রন সংকট এবং যন্ত্রাংশের ঘাটতির মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। মূলত বর্তমানে স্কোয়াড্রনের সংখ্যা কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা ভারতের বিমান বাহিনীর জন্য এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, বর্তমানে অনুমোদিত ৪২টি স্কোয়াড্রনের বিপরীতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর সক্রিয় স্কোয়াড্রন রয়েছে ২৯টি। জাগুয়ার যুদ্ধবিমানের ছয়টি স্কোয়াড্রন এখনও পরিচালনা করছে তারা।

তবে যুক্তরাজ্য থেকে ৯টি জাগুয়ার যুদ্ধবিমান সংগ্রহের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ফ্রান্স, ওমান এবং যুক্তরাজ্য থেকে অবসরপ্রাপ্ত জাগুয়ার সংগ্রহ করেছিল ভারত। ওই দেশগুলো সেসময় বিমানগুলোকে আগে থেকেই সক্রিয় সেবা থেকে সরিয়ে নিয়েছিল।

এছাড়া ২০১৮ সালে ফ্রান্স বিনামূল্যে ৩১টি অবসরপ্রাপ্ত জাগুয়ার বিমান, ইঞ্জিন এবং যন্ত্রাংশ ভারতকে দিয়েছিল। ওমানের সঙ্গে ২০টির বেশি অবসরপ্রাপ্ত জাগুয়ার হস্তান্তরের একটি চুক্তি হয়। সেগুলোর উড্ডয়ন ঘণ্টা তুলনামূলক কম ছিল এবং ভালো অবস্থায় ছিল।

বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীই বিশ্বের একমাত্র বিমান বাহিনী যারা এখনও জাগুয়ার যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। ১৯৮০-এর দশকে প্রথম এই বিমান সংগ্রহ করেছিল ভারত।

বিদেশ থেকে আনা এসব বিমান থেকে ল্যান্ডিং গিয়ার, হাইড্রোলিক ব্যবস্থা, অ্যাভিওনিক্স এবং রোলস-রয়েস অ্যাডুর ইঞ্জিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করা হয়। এর মাধ্যমে যন্ত্রাংশের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছে ভারতীয় বিমান বাহিনী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, গত এক দশকে জাগুয়ার বহরের অর্ধেককে আধুনিক মানে উন্নীত করা হয়েছে। তবে বাকি পুরোনো বিমানগুলোর পেছনে বিনিয়োগকে উপযুক্ত মনে করা হয়নি। সেগুলো ২০২৮ সাল থেকে ধীরে ধীরে অবসর নেয়া শুরু করবে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ড্যারিন-৩ মানে উন্নীত জাগুয়ারগুলোতে উন্নত রাডার সংযোজন করা হয়েছে এবং সেটি একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও অনুসরণ, ভূখণ্ডের মানচিত্র তৈরি এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিং করতে সক্ষম। এছাড়া আধুনিক মাল্টি-ফাংশন ডিসপ্লে ও উন্নত হেড-আপ ডিসপ্লে দিয়ে ককপিটও আধুনিক করা হয়েছে।

এক সময় ড্যারিন-৩ উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের মাধ্যমে পুরোনো অ্যাডুর ইঞ্জিনের পরিবর্তে হানিওয়েল এফ-১২৫এন ইঞ্জিন বসানোর পরিকল্পনা করেছিল ভারতীয় বিমান বাহিনী। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে সেই পরিকল্পনা পরে বাতিল করা হয়।

আধুনিকায়ন করা জাগুয়ারগুলো আগামী দশকজুড়েও সক্রিয় রাখার পরিকল্পনা করেছে ভারত। নতুন প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করতেই এই পরিকল্পনা করছে দেশটি।

এমন অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত ও বাতিল যুদ্ধবিমান সংগ্রহের ফলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের ধারাবাহিক সরবরাহও নিশ্চিত হবে। এর পাশাপাশি থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মতো অন্যান্য পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে বিমানগুলোর ইজেকশন সিটের যন্ত্রাংশেরও ঘাটতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *