মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ, কেঁপে উঠল টেকনাফ সীমান্ত
![]()
কক্সবাজার প্রতিনিধি
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত।
বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার পর চার দফা বিস্ফোরণের শব্দে সীমান্তবর্তী জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, টেকনাফের জাদিমুড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিকট শব্দে অনেক ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শফিকুল আলম বলেন, “হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভব করি। মনে হচ্ছিল পুরো এলাকা কেঁপে উঠছে। পরপর চারটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। প্রথম বিস্ফোরণের সময় নাফ নদীর ওপারে আগুনের শিখাও দেখা গেছে। বিস্ফোরণটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি আরাকান আর্মির ছোড়া মর্টারশেলের বিস্ফোরণ হতে পারে।”
টেকনাফে জালিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, “প্রায় সাত মাস পর আবারও মিয়ানমারের দিক থেকে গোলাবর্ষণের শব্দ শুনলাম। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে চারবার বিকট বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রথমে মনে হয়েছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। পরে বুঝতে পারি, সীমান্তের ওপার থেকেই বিস্ফোরণের শব্দ আসছে।”
ফিরোজা বেগম বলেন, “হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দে আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। প্রচণ্ড শব্দে পুরো ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। ভয়ে ছোট ছোট শিশুরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। সারারাত উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের মধ্যেই কাটিয়েছি।”
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, “দীর্ঘদিন পর মিয়ানমারে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এর প্রভাব টেকনাফ সীমান্তেও পড়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে মানুষের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। অনেকে আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি দেখা দিয়েছে।”
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (বিজিবি-২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “রাত ৯টার দিকে মিয়ানমারের মংডু সীমান্তের ওপারে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ওই গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা যাচ্ছে। এ কারণে অনেক স্থানে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে তিনি নিজেই সীমান্ত এলাকায় যাচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শাহপরীর দ্বীপ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি চলছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের সময়ও মর্টারশেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত কেঁপে উঠেছিল। দীর্ঘদিন পর আবারও আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন রাখাইনে হামলা শুরু করেছে মিয়ানমার সরকার। একই দিন সকালে রাখাইনের বুথিডং এলাকায় বিমান হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।