পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ: সাবেক ডিআরডিও বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) সাবেক বিজ্ঞানী প্রদীপ কুরুলকরের বিরুদ্ধে কথিত গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় অভিযোগ গঠন করেছে দেশটির একটি স্থানীয় আদালত। এর মধ্য দিয়ে আগামী জুলাই মাস থেকে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার আদালত কুরুলকরের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট (ওএসএ)-এর ৩ ও ৫ ধারায় অভিযোগ গঠন করে। এ ধারাগুলো গুপ্তচরবৃত্তি এবং রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য বেআইনিভাবে আদান-প্রদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য প্রযোজ্য।
বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বলা পাওয়ার জানান, আগামী জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে মামলার বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, মামলাটি অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতাভুক্ত হওয়ায় বিচার কার্যক্রম ইন-ক্যামেরা বা জনসাধারণের উপস্থিতি ছাড়া গোপন কক্ষে পরিচালিত হবে।
তিনি আরও জানান, বিচার চলাকালে যেসব নথি উপস্থাপন করা হবে, তার তালিকা আদালতে জমা দিতে প্রসিকিউশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রদীপ কুরুলকর ডিআরডিওর একজন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ছিলেন এবং ভারতের পুনেতে অবস্থিত একটি প্রতিরক্ষা গবেষণাগারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পাকিস্তানের এক কথিত গোয়েন্দা সংযোগকারীর কাছে সংবেদনশীল ও গোপন প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছিলেন।
মামলাটির তদন্ত করছে মহারাষ্ট্র অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস)। সংস্থাটি ২০২৩ সালের ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
বর্তমানে মামলাটি শুনানি করছেন এটিএস-সংক্রান্ত মামলার বিশেষ বিচারক পি. ওয়াই. লাডেকার।
কুরুলকরের আইনজীবী ঋষিকেশ আর. গানু ও রাঘব পুরানিক মামলাটি থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩(১)(সি), ৪, ৫(১)(এ), ৫(১)(সি) এবং ৫(১)(ডি) ধারাসহ বিভিন্ন ধারায় তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে।
গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ
মহারাষ্ট্র এটিএস ২০২৩ সালের ৩ মে প্রদীপ কুরুলকরকে গুপ্তচরবৃত্তি এবং পাকিস্তানের এক সন্দেহভাজন গোয়েন্দা সংযোগকারীর কাছে প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত গোপন তথ্য সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে এটিএস বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা করে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে কুরুলকর ও সন্দেহভাজন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংযোগকারীর মধ্যে কথিত বার্তালাপসংবলিত ফরেনসিক বিজ্ঞানাগারের একটি প্রতিবেদন বিশেষ আদালতে জমা দেওয়া হয়।
তবে মামলার সংবেদনশীলতা এবং অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের বিধিনিষেধের কারণে ওই প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে এটিএস কুরুলকরের জামিনের বিরোধিতা করেছিল। অন্যদিকে তার আইনজীবীরা তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটি এখন বিচার পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আগামী জুলাই মাসে বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী শুনানিগুলোও গোপন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।