রাখাইনে সংকট নিয়ে বিশ্লেষকদের নতুন শঙ্কা

রাখাইনে সংকট নিয়ে বিশ্লেষকদের নতুন শঙ্কা

রাখাইনে সংকট নিয়ে বিশ্লেষকদের নতুন শঙ্কা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের রাখাইনে আরাকান আর্মি ও জান্তার সংঘাত শুধু সামরিক লড়াই নয়; ভূ-রাজনৈতিক ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক করিডরের হিসাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাড়তে পারে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকিও।

রাখাইন রাজ্যের মংডুতে কয়েক দিন ধরেই আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে জান্তা বাহিনী। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে আরাকান আর্মিও। সংঘর্ষে হতাহত হচ্ছে মানুষ, বাস্তুচ্যুত হচ্ছে বহু বেসামরিক নাগরিক। বিস্ফোরণের শব্দ পৌঁছে যাচ্ছে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পর্যন্ত।

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার (৪ জুলাই) টেকনাফে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় নাফ নদী ও স্থল সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচার দমন, পাহাড়ে সন্ত্রাসী আস্তানা উচ্ছেদ, ক্যাম্পের বাইরে থাকা রোহিঙ্গাদের শনাক্ত এবং যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।
 
 
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, রাখাইনের সংঘাতকে শুধু সামরিক সংঘর্ষ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না, সম্ভাব্য বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরকে ঘিরেও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থের প্রতিযোগিতা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।
 
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, 

বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর একটি নতুন পরিকল্পনা, যার সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়টিও যুক্ত আছে। তবে বিভিন্ন পক্ষ এই করিডোর বাস্তবায়ন চাইবে না। তাই এ বিষয়ে বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. সফিউল্লাহ বলেন, ‘দীর্ঘদিন সংঘর্ষ তুলনামূলক কম থাকলেও করিডোরের বিষয়টি সামনে আসার পর আবার উত্তেজনা বেড়েছে। এর পেছনে কোনো আঞ্চলিক শক্তির ইন্ধন থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে।’
 
এদিকে, নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সীমান্ত নিরাপত্তা, নতুন রোহিঙ্গা ঢল, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সীমান্ত ব্যবস্থাপনাও জোরদারে করতে হবে।
  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।
 
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) মো. এমদাদুল ইসলাম বলেন, 

সংঘাত তীব্র হলে প্রাণ বাঁচাতে আরও মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করতে পারে রোহিঙ্গারা। তাই সীমান্তে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি রোহিঙ্গা নেতাদের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে, বাংলাদেশে নতুন করে আশ্রয়ের সুযোগ নেই।

রাখাইনের সংঘাত আপাতত মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর প্রভাব এরইমধ্যে বাংলাদেশের সীমান্তেও অনুভূত হচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে সামরিক বাস্তবতা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং রাখাইনকে ঘিরে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির পরবর্তী গতিপথের ওপর।
-সময় টিভি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *