জাতিসংঘে স্বীকৃতি পেতে নতুন তৎপরতা জান্তার, রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুনকে অপসারণের দাবি
![]()
নিউজ ডেস্ক
চীনের সমর্থন পাওয়ার পর জাতিসংঘে নিজেদের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি ইউ কিয়াও মোয়ে তুনকে অপসারণ করে জান্তার মনোনীত প্রতিনিধিকে দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার জন্য আবারও জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে আন্তোনিও গুতেরেস-এর উদ্দেশে দ্বিতীয়বারের মতো একটি উন্মুক্ত চিঠি প্রকাশ করেছে জান্তা। বুধবার রাষ্ট্রীয় মুখপত্র মিয়ানমা অ্যালিন-এ প্রকাশিত ওই চিঠিতে মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, ইউ কিয়াও মোয়ে তুনকে অপসারণ করে জান্তার মনোনীত ব্যক্তিকে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিতে।
এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন গত জুনের মাঝামাঝি চীন সফরে গিয়ে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সমর্থন পান। ওই সফরে শি জিনপিং মিয়ানমারের আসিয়ান ও জাতিসংঘের কার্যক্রমে “পূর্ণ, সমান ও গঠনমূলক অংশগ্রহণের” প্রতি সমর্থন জানান এবং দেশটির “বৈধ অধিকার ও স্বার্থ” রক্ষার পক্ষে অবস্থান নেন।
এদিকে, সামরিকপন্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নেটওয়ার্কগুলোও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউ কিয়াও মোয়ে তুনকে অপসারণের দাবিতে প্রচারণা জোরদার করেছে।
গত ২৬ জুন জান্তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিন মং সোয়ে নেপিদোতে কর্মরত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের ডেকে পাঠান। সেখানে তিনি “হস্তক্ষেপ” এড়িয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। জান্তার সর্বশেষ প্রকাশিত নিবন্ধে টিন মং সোয়ে জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ-এর বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানের অপব্যবহার করে মিয়ানমারকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে তার সমালোচনার প্রতিধ্বনি না করারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
নিবন্ধে জান্তা দাবি করেছে, নতুন প্রশাসন আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সংস্থাটির সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তবে নিবন্ধের বড় অংশজুড়ে ইউ কিয়াও মোয়ে তুনের ব্যক্তিগত সমালোচনা করা হয়েছে এবং National Unity Government (এনইউজি) ও People’s Defense Force (পিডিএফ)-এর বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
ইউ কিয়াও মোয়ে তুন বেসামরিক সরকারের আমলে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর তিনি জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে জান্তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সামরিক শাসনের নিন্দা জানান। এরপর থেকে জাতিসংঘ তাকে মিয়ানমারের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। বিপরীতে, সাধারণ জনগণের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের কারণে জান্তাকে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম থেকে কার্যত বাইরে রাখা হয়েছে।
এ পরিস্থিতি জান্তার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তি ও ক্ষোভের কারণ। তারা বারবার ইউ কিয়াও মোয়ে তুনকে পদত্যাগ এবং নিউইয়র্কের সরকারি বাসভবন ছাড়ার জন্য চাপ দিয়েছে। এমনকি তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং তার নাগরিকত্বও বাতিল করা হয়। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা নিউইয়র্কে তাকে হত্যার একটি ষড়যন্ত্রের তথ্য প্রকাশ করেন, যার সঙ্গে জান্তাসমর্থকদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।
সে সময় চীন অভ্যুত্থানের পরপরই জান্তা থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখায় ইউ কিয়াও মোয়ে তুনকে অপসারণের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। তবে এবার শি জিনপিংয়ের প্রকাশ্য সমর্থন পাওয়ার পর জান্তা আবারও তাকে সরিয়ে নিজেদের প্রতিনিধি নিয়োগের প্রচারণা শুরু করেছে।
তবে এসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও জাতিসংঘ এখনো জান্তার আয়োজিত নির্বাচন কিংবা তাদের পুনর্গঠিত প্রশাসনকে স্বীকৃতি দেয়নি। গত রোববার জাতিসংঘের এক বৈঠকে ইউ কিয়াও মোয়ে তুন আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মিয়ানমারের সামরিক শাসনের ক্ষেত্রে ‘রেসপনসিবিলিটি টু প্রোটেক্ট (R2P)’ নীতি প্রয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি International Criminal Court-এর প্রতি মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিরও আহ্বান জানান।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।