রাঙামাটির বন্যা: সরকারি তৎপরতার বিপরীতে আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও উপজাতি সংগঠনগুলো কোথায়?
![]()
জার্নাল ডেস্ক
গত ৮ জুলাই ২০২৬ থেকে টানা প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা এবং ভূমিধসের কারণে রাঙামাটি জেলার সার্বিক জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং বহু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হলো বিলাইছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে প্রায় চার হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে, ৭৬৪৬ টি পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে, ছোট বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে ১৩৫ টি। এছাড়াও এযাবৎ পাহাড়ি ঢলে বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি সদর ও বিলাইছড়িতে মোট তিনজন ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা দিনরাত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শুকনো খাবার, রান্না খাবার, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ঢাকা থেকে সরকারের মন্ত্রীরাও বারংবার আসছেন দূর্গত এলাকার মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে। এই দূর্যোগকালীন সময়ে সরকারের সকল বিভাগই মাঠে নেমে একযোগে কাজ করছে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়।
তবে এই মানবিক সংকটের মধ্যে একটি বিষয় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে তা হলো আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলসমূহ ও তথাকথিত মানবতার ধ্বজাধারী উপজাতি নেতৃবৃন্দের নির্লজ্জ নির্লিপ্ততা। দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন নিজেদেরকে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি ও অধিকার আদায়কারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসলেও, চলমান দুর্যোগে তাদের দৃশ্যমান অনুপস্থিতি নিয়ে ভুক্তভোগী মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ ফুটে উঠেছে।
আঞ্চলিক দল ও সশস্ত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা
বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান আঞ্চলিক দল বা সশস্ত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস, প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এবং হিল উইমেনস ফেডারেশনের মত সংগঠনসমূহ সবসময় সরকার, প্রশাসন কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অপপ্রচার চালানোর মাধ্যমে সাধারণ উপজাতি জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন ইস্যুতে উসকানি দিয়ে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংগঠিত করে থাকে। কিন্তু এই দুর্দিনে সাধারণ উপজাতি জনগোষ্ঠী যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত, তখন এসব আঞ্চলিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনরূপ ত্রাণ বা উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে যে, জেএসএস ও ইউপিডিএফ বিভিন্নভাবে বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে জোরপূর্বক বিপুল পরিমাণ চাঁদাবাজি করে থাকে। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মূল্যায়নে এ অঙ্ক বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের জন্য এই সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কোন উল্লেখযোগ্য আর্থিক বা মানবিক সহায়তার তথ্য চোখে পড়েনি।
এব্যাপারে সাধারণ জনগণের মতামত জানার চেষ্টা করলে অধিকাংশই ভয়ে মন্তব্য করতে রাজি না হলেও কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সশস্ত্র আঞ্চলিক এসব সংগঠনে চাঁদার টাকার সকল অর্থ ব্যয় হয় অস্ত্র ক্রয়ে ও দলীয় বড় নেতাদের মনোরঞ্জনে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের নীরবতা
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, সমন্বয় এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। যুগের পর যুগ ধরে নির্বাচন ছাড়াই প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ক্ষমতা ভোগ করা পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা বিভিন্ন সময়ে আঞ্চলিক পরিষদকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে অন্যান্য সরকারি সংস্থা এর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। কিন্তু চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ত্রাণ কার্যক্রম, জরুরি সমন্বয় সভা, ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।
ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
চাকমা সম্প্রদায়ের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে পরিচিত চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ও এই সংকটে জনগণের পাশে না দাড়ানোয় ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছেন। বছরের পর বছর সাধারণ উপজাতি ও বিদেশি দাতা সংস্থার কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া এই সার্কেল চীফের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবাশীষ রায় টংগা এনজিও ও ভিসিএফ প্রকল্পের নামে বিদেশিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা সাধারণ জনগণের সেবায় ব্যয় না করে নিজে লোভ লালসায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া উপজাতি ছেলে-মেয়েদের নিয়ে পার্বত্য এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিজের ব্যক্তি স্বার্থে সফর করতে দেখা গেলেও চরম দূর্যোগময় সময় গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে তাকে সন্তর্পণে রাঙ্গামাটি ত্যাগ করতে দেখা যায়। কিন্তু এসময়ই সার্কেল চীফ হিসাবে সাধারণ উপজাতিরা তাকে পাশে চেয়েছিল। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উদ্দেশ্যে তার পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য মানবিক বার্তা বা সহায়তার ঘোষণা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সার্কেল চীফ দেবাশীষ রায়কে নিয়ে স্বাধীনচেতা উপজাতিরা সমালোচনামূলক পোস্ট দিচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ইয়ান ইয়ানের নীরবতা
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় হিসেবে পরিচিত ইয়ান ইয়ানও এই দুর্যোগে কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করেননি বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার রক্ষার নামে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনার, পুরষ্কার প্রাপ্তি কিংবা দেশ নিয়ে বিষোদগার করতে দেখা যাওয়া ইয়েন ইয়েন বর্তমান দূর্যোগকালীন মূহুর্তে পুরো নিরব ভুমিকায়। তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন। বন্যাকবলিত পাহাড়ি জনগণের জন্য কোনো মানবিক উদ্যোগ, তহবিল সংগ্রহ, আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য সমবেদনা বার্তাও তার কাছ থেকে এ পর্যন্ত দেখা যায়নি।
তার বিরুদ্ধেও ব্যাপক অভিযোগের তীর পাহাড়বাসীর। বিভিন্ন সময়ে সরকার ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে বক্তব্য দেয়া, অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে উপদেষ্টা হতে চেয়ে না পেরে অন্য ইস্যুকে সামনে এনে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে উপজাতি যুবকদের সাথে মিলে আন্দোলনের নামে হট্টগোল করতেও দেখা যায় তাকে। এছাড়া সংবিধান পরিপন্থি বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে পাহাড়িদের উস্কে দেয়ার অভিযোগও তোলা হয় তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তিনি আন্তজার্তিক মহলে নিজেকে পাহাড়ের সকল উপজাতিদের প্রতিনিধি হিসাবে তুলে ধরায় পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
উপজাতি নাগরিক সমাজের নির্লিপ্ততা
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এবং তথাকথিত উচ্চ শ্রেণীর পাহাড়ি নেতৃবৃন্দের নিশ্চুপ ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী ফোরামের প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উপজাতীয় নাগরিক সমাজের গৌতম দেওয়ান ও নিরূপা দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির জোরিতা চাকমা এবং হেডম্যান নেটওয়ার্ক অ্যাসোসিয়েশনের চিঙ্কু রোজাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে আসছেন। নিজেদের পাহাড়ি সম্প্রদায়ের কন্ঠস্বর হিসেবে পরিচয় দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজপথ গরম রাখার বিষয়ে তারা ছিলেন সবসময় সরব।
তারা প্রায়ই পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন, ভূমি সমস্যা, সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক আদিবাসী অধিকার, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারি নীতির সমালোচনায় সরব থাকলেও, চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কোনো সমন্বিত মানবিক কর্মসূচিতে তাদের অংশ নেয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তারা সর্বদা সাধারণ পাহাড়িদের আবেগ কেনা বেচা করতেই সিদ্ধ হস্ত।
উপজাতি নিয়ন্ত্রিত এনজিওগুলোও অনুপস্থিতি
পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি অনুদানে পরিচালিত একাধিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে যার মধ্যে ব্যারিস্টার দেবাশিষ রায় সংশ্লিস্ট টংগা এনজিও কিংবা পল্লব চাকমা সংশ্লিষ্ট কাপেং ফাউন্ডেশন অন্যতম। এই সংস্থাসমূহের পক্ষ থেকেও বন্যা পরিস্থিতিতে কোন ত্রাণ বা মানবিক কার্যক্রমের তথ্য এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতাদের কাছ থেকে উপজাতি জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা অনুদানপ্রাপ্ত এসব প্রতিষ্ঠান দুর্যোগের সময় কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
সনাতনী সংগঠনগুলোর অবস্থান
জাগো হিন্দু ফাউন্ডেশন, সনাতনী ঋষি আশ্রম, পূজা উদযাপন কমিটি এবং পূজা উদযাপন ফ্রন্টসহ বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনও চলমান দুর্যোগে কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। সমালোচকদের মতে, বিভিন্ন সামাজিক বা ধর্মীয় ইস্যুতে এসব সংগঠন নিয়মিত বিবৃতি ও কর্মসূচি পালন করলেও, বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
হেডম্যান-কারবারি সমিতির ভূমিকা
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত শাসনব্যবস্থার জন্য আন্দোলনকারী হেডম্যান-কারবারি সমিতিও এই দুর্যোগে দৃশ্যমানভাবে সক্রিয় নয় বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
এই সংগঠন অতীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রবিধান ১৯০০ বহাল রাখা (যা সিএইচটি রেগুলেশন-১৯০০ নামে পরিচিত), পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, প্রথাগত আইন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দাবিতে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করেছে। এমনকি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর অপসারণের দাবিতেও সাম্প্রতিক সময়ে তারা একাধিকবার প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু চলমান মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য তাদের কোনো সমন্বিত ত্রাণ কার্যক্রম বা জনসেবামূলক উদ্যোগের তথ্য পাওয়া যায়নি।
মানবিক সংকট কি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিল?
বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সাম্প্রতিক বন্যা কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের নেতৃত্ব, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক সংগঠন এবং উন্নয়ন কাঠামোর বাস্তব সক্ষমতা নিয়েও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের মতে, সুবিধাজনক সময়ে অধিকার, বৈষম্য, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক দাবিদাওয়া নিয়ে যেসব সংগঠন সবচেয়ে বেশি সোচ্চার থাকে, তাদের কাছ থেকে দুর্যোগের সময়ও একই মাত্রার মানবিক নেতৃত্ব প্রত্যাশিত ছিল। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয় সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে অনেকেই নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে সরকারি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের ভূমিকা ইতিবাচকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনগণের পাশে কে কতটা কার্যকরভাবে দাঁড়ায়—এই প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত কোনো সংগঠন বা নেতৃত্বের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হয়ে ওঠে। পাহাড়ের সাম্প্রতিক বন্যা সেই বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।