পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট এলাকায় অবস্থিত সাজেক অদ্বিতী পাবলিক স্কুলে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা, শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী, স্কুল ড্রেস, স্কুলব্যাগ বিতরণ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে সচেতনতামূলক ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের অধীনস্থ বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে এ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
জানা যায়, সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে ভূয়াছড়ি, রুইলুই, শীলছড়ি, মুশফিক, লক্ষ্মীছড়ি, করেঙ্গাতলীসহ দুর্গম এলাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে। এসব উদ্যোগের ফলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত ও আলোকিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাজেক অদ্বিতী পাবলিক স্কুলে একটি সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়।
এছাড়াও বাঘাইহাট জোন এবং স্কুল ম্যানেজিং কমিটির তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস, স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে জলবাহিত রোগ, হাম প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে জনসচেতনতামূলক ক্লাস পরিচালনা করেন বাঘাইহাট জোনের রেজিমেন্টাল মেডিকেল অফিসার।
স্থানীয়রা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সেনাবাহিনী আছে বলেই আমরা পাহাড়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারছি। তারা সবসময় আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিল, এখনও আছে।

এ সময় উপস্থিত সেনা কর্মকর্তা জানান, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, আর্থিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় জনগণকে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, আস্থা ও ভ্রাতৃত্বের যে বন্ধন গড়ে উঠেছে, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তাভিত্তিক এ ধরনের উদ্যোগ সেই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করছে। একই সঙ্গে এটি দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, আলোকিত ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।