ত্রিপুরায় ইনার লাইন পারমিট চালুর দাবিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিধায়কের চিঠি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য ত্রিপুরায় ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন ত্রিপুরা বিধানসভার সদস্য (এমএলএ) রঞ্জিত দেববর্মা।
পাঁচ পৃষ্ঠার ওই আবেদনে তিনি দাবি করেন, ১৯৯৩ সালের ২৩ আগস্ট তৎকালীন সশস্ত্র সংগঠন অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স (এটিটিএফ) এবং ত্রিপুরা সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত “মেমোরেন্ডাম অব সেটেলমেন্ট”-এর ২(ই) ধারায় রাজ্যে ইনার লাইন পারমিট চালুর বিষয়টি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে উত্থাপনের কথা উল্লেখ ছিল। তবে দীর্ঘ তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।
চিঠিতে রঞ্জিত দেববর্মা উল্লেখ করেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম এবং পরে মণিপুরে ইনার লাইন পারমিট চালু হলেও বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা ত্রিপুরায় এখনো এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়নি।
তিনি দাবি করেন, ইনার লাইন পারমিট না থাকায় ত্রিপুরায় অবৈধ অনুপ্রবেশ বেড়েছে এবং এটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও রাজ্যের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, ইনার লাইন পারমিট চালু হলে রাজ্যে প্রবেশ ও বের হওয়া ব্যক্তিদের নিবন্ধন সহজ হবে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা ত্রিপুরায় প্রবেশ করে ভুয়া নথির মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকারি সুযোগ-সুবিধাও গ্রহণ করছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ বসতি, ভুয়া নথি তৈরির দালাল চক্র, সীমান্ত অপরাধ ও চোরাচালান বৃদ্ধির অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
চিঠিতে দাবি করা হয়, এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ত্রিপুরায় ইনার লাইন পারমিট ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।
এমএলএ রঞ্জিত দেববর্মা জানান, এর আগেও ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই একই দাবিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন। সর্বশেষ নতুন আবেদনপত্রের অনুলিপি ত্রিপুরার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি) এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) হলো ভারতের একটি বিশেষ প্রবেশ অনুমতি ব্যবস্থা, যা বর্তমানে অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও মণিপুরে কার্যকর রয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্য রাজ্যের ভারতীয় নাগরিকদের প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যার উদ্দেশ্য স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমি, সংস্কৃতি ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য সংরক্ষণ।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।