নাগাল্যান্ডে এনএসসিএন (আইএম) ভেঙে নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক’র আত্মপ্রকাশ

নাগাল্যান্ডে এনএসসিএন (আইএম) ভেঙে নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক’র আত্মপ্রকাশ

নাগাল্যান্ডে এনএসসিএন (আইএম) ভেঙে নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক’র আত্মপ্রকাশ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী নাগা সশস্ত্র সংগঠন ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগালিম (ইসাক-মুইভাহ) [এনএসসিএন-আইএম]-এ নতুন করে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া একদল নেতা ‘ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক’ নামে নতুন একটি গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা একটি ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ (Provisional Government) গঠনের ঘোষণা দিয়ে দাবি করেছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির মূল চেতনা আর কার্যকর নেই।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) মিয়ানমারের মাউন্ট হোরেব ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্কের এক বৈঠকে নতুন নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করা হয়।

নতুন গোষ্ঠীটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে এনএসসিএন (আইএম)-এর প্রয়াত সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইসাক চিশি সুয়ের ছেলে ইকাতো আই. চিশি সুয়েকে। ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এইচএস রামসান। এছাড়া আরও কয়েকজন নেতাকে সদস্য ও উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইকাতো সুয়ে ও এইচএস রামসানকে সম্প্রতি এনএসসিএন (আইএম) থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাদের নেতৃত্বে নতুন এই গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ বর্তমান চেয়ারম্যান থুইঙ্গালেং মুইভাহর নেতৃত্বের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক জানায়, পূর্ণাঙ্গ সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালিত হবে। তাদের ভাষ্য, ‘নাগা জাতিকে আরেকটি আত্মসমর্পণ থেকে রক্ষা’ এবং ‘বর্তমান সংকট থেকে নাগা রাজনৈতিক আন্দোলনকে উদ্ধার’ করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ১৯৯৭ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও এনএসসিএন (আইএম)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির যে রাজনৈতিক ভিত্তি ও আস্থা ছিল, তা এখন আর বিদ্যমান নেই। তাই নতুন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।

তবে নতুন এই গোষ্ঠীর সদস্যসংখ্যা, তাদের সামরিক সক্ষমতা কিংবা এনএসসিএন (আইএম)-এর কতজন নেতা এতে যোগ দিয়েছেন—সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই বিভক্তি এনএসসিএন (আইএম)-এর চলমান অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে বহু বছর ধরে চলমান নাগা শান্তি প্রক্রিয়া এবং ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

উল্লেখ্য, এনএসসিএন (আইএম) ১৯৯৭ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে শান্তি আলোচনায় অংশ নিয়ে আসছে। কিন্তু চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এরই মধ্যে সংগঠনের ভেতরে নতুন এই ভাঙন নাগা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *