সেনা চেকপোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি মিয়ানমারের সংসদে

সেনা চেকপোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি মিয়ানমারের সংসদে

সেনা চেকপোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি মিয়ানমারের সংসদে
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

মিয়ানমারে সেনাবাহিনী পরিচালিত নিরাপত্তা চেকপোস্টগুলোতে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশটির এক সংসদ সদস্য। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে কাচিন রাজ্যের মোগাউং টাউনশিপের প্রতিনিধি উ তুন তুন অং বলেন, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেনা নিয়ন্ত্রিত চেকপোস্টগুলোতে চাঁদাবাজি ও হয়রানি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

সামরিকপন্থী ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) এই সংসদ সদস্য বলেন, সরকারিভাবে পরিচালিত নিরাপত্তা চেকপোস্টে অবৈধ অর্থ আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং জনস্বার্থে এসব কর্মকাণ্ড দ্রুত বন্ধ করা উচিত।

তিনি বলেন, “বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চেকপোস্টে অর্থ আদায় নিয়ে আমি অভিযোগ করছি না। কিন্তু সরকারি নিরাপত্তা চেকপোস্টে অবৈধ অর্থ আদায় অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।”

সংসদ সদস্যের অভিযোগ, সামরিক বাহিনী ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের (ইএও) চেকপোস্টের কারণে মান্দালয়-শ্বেবো-মিতকিনা সড়কে পণ্য পরিবহনের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে মান্দালয় থেকে পাঠানো পণ্যের দাম কাচিন রাজ্যের রাজধানী মিতকিনায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

তিনি জানান, মান্দালয় থেকে মিতকিনা পর্যন্ত সড়কে প্রায় ৫০টি চেকপোস্ট রয়েছে। এসব চেকপোস্টে পণ্যের ধরন অনুযায়ী প্রতিটি ট্রাক থেকে ১৫ লাখ থেকে ৩০ লাখ কিয়াত পর্যন্ত আদায় করা হয়। এই অর্থ সেনাবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনও আদায় করে থাকে।

মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী জানায়, সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা চেকপোস্টগুলোতে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়মিত উঠছে। বিশেষ করে তরুণদের প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্য সন্দেহে আটক করা হয়। অনেককে বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেককে ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া যাত্রীবাহী যান ও পণ্যবাহী ট্রাক থেকেও নিয়মিত অবৈধ অর্থ আদায় করা হয়। আমদানি নিষেধাজ্ঞার সুযোগ নিয়ে সেনারা বিভিন্ন পণ্যের চালান তল্লাশি, আটকে রাখা বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের সীমার বাইরে দাবি করে জব্দ করার হুমকি দেয়। অনেক ক্ষেত্রে চালকদের ঘুষ দিয়ে পণ্য ছাড়িয়ে নিতে বাধ্য হতে হয়।

সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে নিম্নকক্ষের স্পিকার খিন ই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদে একই ধরনের প্রশ্ন বারবার উঠছে, যা থেকে বোঝা যায় আগের জবাবগুলো সন্তোষজনক ছিল না। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে যথাযথভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে হবে।

তবে উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল মিন থু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মান্দালয়-মিতকিনা সড়কে সেনা ও পুলিশের যৌথভাবে পরিচালিত মাত্র পাঁচটি চেকপোস্ট রয়েছে। সেখানে অবৈধ অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। প্রতিটি চেকপোস্টে সিসিটিভি ক্যামেরা, অভিযোগ জানানোর হটলাইন এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে গত ১৬ জুন মন রাজ্যের সংসদেও একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। কিয়াইকমায়াও টাউনশিপের সংসদ সদস্য উ থান জাও চেকপোস্টে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে সে সময় রাজ্য সরকারের অস্পষ্ট জবাব সমালোচনার জন্ম দেয়।

যদিও সামরিক সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবু পণ্য পরিবহন ব্যবসায়ী ও ট্রাকচালকদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অর্থ আদায় চলছে। একই সঙ্গে চীন ও থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী কাচিন, শান ও কারেন রাজ্যের বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনও তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কর আদায় করে। ফলে ব্যবসায়ীদের উভয় পক্ষকেই অর্থ দিতে হয় এবং সাধারণ মানুষ প্রতিদ্বন্দ্বী কর্তৃপক্ষের চাপে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *