মানিকছড়িতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান করল সেনাবাহিনীর লক্ষীছড়ি জোন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
সেনাবাহিনীর মানবিক স্পর্শে বদলে পার্বত্যাঞ্চলের দুর্গম জনপদে শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনকল্যাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নেও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি জোনের উদ্যোগে মানিকছড়ি উপজেলার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নমূলক বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে লক্ষীছড়ি জোনের আওতাধীন মানিকছড়ি উপজেলার গাড়িটানা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষীছড়ি অধিনায়ক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খান সজিবুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করতে বিদ্যালয়কে বৈদ্যুতিক ফ্যান ও আলমারি প্রদান করা হয়।

এছাড়াও বর্ষাকালে ভূমিধস ও মাটি ক্ষয়ের ঝুঁকি থেকে বিদ্যালয়কে সুরক্ষিত রাখতে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো আরও নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে জোন অধিনায়ক বলেন, শিক্ষাই একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। তাই দুর্গম পার্বত্যাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যেন প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে, সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন শিক্ষা সহায়তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তাসহ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, সেনাবাহিনীর দেওয়া ক্রীড়া সামগ্রী, ফ্যান ও আলমারি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সীমানা প্রাচীর সংরক্ষণে মাটি ভরাটের ফলে বিদ্যালয়টি প্রাকৃতিক ঝুঁকি থেকে অনেকটাই নিরাপদ হবে।
স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারাও সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এমন কার্যক্রম অত্যন্ত সময়োপযোগী। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ক্রীড়া, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যে ধারাবাহিকভাবে জনকল্যাণমূলক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে, লক্ষীছড়ি জোনের এ উদ্যোগ তারই আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।যাচ্ছে দুর্গম জনপদ তে
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।