থানচিতে অগ্নিকাণ্ডে দুই বসতঘর ছাই, পাহাড়ধসে নষ্ট খাদ্যশস্য; মানবেতর জীবন দুই পরিবারের
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম পাতোয়া ম্রো কারবারীপাড়ায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসে তাদের জুমের খাদ্যশস্যও নষ্ট হওয়ায় পরিবার দুটি চরম মানবিক সংকটে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৯ জুলাই (বুধবার) দিবাগত রাতে রেমাক্রী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাতোয়া ম্রো কারবারীপাড়ায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য মাংচং ম্রো।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কর্তা আচে ম্রো (২৮) ও রেংরাং ম্রো (৩০)। দুই পরিবারের মোট ১২ জন সদস্য বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, আগুনে তাদের বসতঘর, শিশুদের বই-খাতা, পরিধেয় বস্ত্র, বছরের খাদ্য মজুত ধান, প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী এবং প্রায় এক লাখ টাকা নগদ অর্থ পুড়ে গেছে। এর আগে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ধসে তাদের জুমের প্রতি পরিবারের প্রায় পাঁচ হাঁড়ি ধানও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে তারা দুই দফা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
থানচি উপজেলা বিএনপির নেতা চসিংমং মারমা বলেন, টানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে পরিবার দুটি এখন আশ্রয়হীন। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই তারা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উবামং মারমা অভিযোগ করেন, পাহাড়ধসের পরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা পায়নি। অগ্নিকাণ্ডের পরও তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত ত্রাণ, আর্থিক সহায়তা এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা (রনি)-এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।