আলীকদমে সেনাবাহিনী আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেলেন ২১৭ জন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্যাঞ্চলের দুর্গম জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আবারও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে দিনব্যাপী একটি বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার বিদ্যমনি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই মেডিকেল ক্যাম্পে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ২১৭ জন স্থানীয় মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করেন।
দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, সীমিত স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো এবং প্রতিকূল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আলীকদমের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। সামান্য চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অনেককে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই বাস্তবতা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় স্থানীয় জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম সেনা জোন এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। ফলে বহু মানুষ নিজ এলাকায় বসেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পান এবং তাদের সময়, অর্থ ও দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান আশিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ১৭ ইসিবি-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আল হাসান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা।
মেডিকেল ক্যাম্পে আলীকদম সেনা জোনের দক্ষ মেডিকেল অফিসার ও চিকিৎসক দল দিনব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন। এ সময় রোগীদের বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ধরনের মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ফলে জটিল রোগের ঝুঁকি কমে এবং রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পান। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান আশিক বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং একটি সুস্থ জনগোষ্ঠীই একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত জাতি গঠনের ভিত্তি। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে কোনো মানুষই যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিত বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে আসছে। জনগণের কল্যাণ, মানবিক সহায়তা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। তারা বলেন, দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। সেনাবাহিনীর এই বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ হাতে পাওয়ায় তারা অনেক উপকৃত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিত চালু রাখার আহ্বান জানান তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, বরং পার্বত্যাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, আলীকদম সেনা জোনের এই সময়োপযোগী মেডিকেল ক্যাম্প দুর্গম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবার একটি কার্যকর উদ্যোগ। এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড পার্বত্যাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।