আধুনিক শিক্ষা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে উদ্বোধন হলো আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
আধুনিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন যাত্রা শুরু করল আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (AIII)। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের শিক্ষা খাতে সেনাবাহিনীর বহুমাত্রিক অবদানে যুক্ত হলো নতুন একটি অধ্যায়।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (AIII), জলসিঁড়ি-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
একই অনুষ্ঠানে তিনি ভিডিও টেলিকনফারেন্স (VTC)-এর মাধ্যমে বরিশাল, সাভার, বগুড়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোরে প্রতিষ্ঠিতব্য আরও সাতটি আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষাতেই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। দেশের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের জন্য সুনাম অর্জন করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় সময়ের চাহিদা বিবেচনায় আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয়ে এই নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (AIII)-এ ক্যামব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের আধুনিক শিক্ষা এবং কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক মূল্যবোধ শিক্ষা সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, দেশপ্রেম এবং নৈতিক চরিত্র বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা, আদর্শ, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এখানকার শিক্ষার্থীরা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জ্ঞান, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, বরং নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলা সময়ের অন্যতম দাবি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সেনাসদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণ, বিভিন্ন ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে পরিচালিত এ ধরনের প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, সৃজনশীল, দায়িত্বশীল এবং মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই নতুন উদ্যোগ আগামী দিনে একটি অনুসরণীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।