সীমান্তে ৩৪ বিজিবির মেডিকেল ক্যাম্প, ৬০০ মানুষ পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসা

সীমান্তে ৩৪ বিজিবির মেডিকেল ক্যাম্প, ৬০০ মানুষ পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসা

সীমান্তে ৩৪ বিজিবির মেডিকেল ক্যাম্প, ৬০০ মানুষ পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সেই ধারাবাহিকতায় পার্বত্য বান্দরবানের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ, আর্থিক সহায়তা এবং শিক্ষা উপকরণ প্রদান কর্মসূচি পরিচালনা করেছে ৩৪ বিজিবি।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এই মেডিক্যাল ক্যাম্পে প্রায় ৬০০ জন সীমান্তবর্তী এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও দুঃস্থ নারী-পুরুষ ও শিশু চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম-এর নেতৃত্বে এবং দুজন অভিজ্ঞ বিজিবি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তুমব্রু বিওপির দায়িত্বপূর্ণ মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন এলাকার মানুষের জন্য এই বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালিত হয়। চিকিৎসকদের মাধ্যমে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।

মেডিক্যাল ক্যাম্পের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা ও কিয়াংঘরের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসহায় ব্যক্তিদের হাতে আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। বিজিবির এই বহুমুখী সহায়তা কর্মসূচি সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম সীমান্ত এলাকায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বিজিবির এই উদ্যোগ তাদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে উপকৃত হয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য দেওয়া সহায়তাও স্থানীয় উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেই সীমাবদ্ধ নয়; সীমান্তবর্তী অসহায়, দরিদ্র ও বিপন্ন মানুষের কল্যাণেও আমরা সবসময় পাশে আছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সেবাগ্রহীতারা বিজিবির এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে বিজিবি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিনামূল্যের চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা সহায়তা ও মানবিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ যে মানবিক দায়িত্ব পালনে সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ঘুমধুমে আয়োজিত এই কর্মসূচি তারই আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed