দীঘিনালায় চক্ষু অপারেশন-পরবর্তী ২৮ রোগীকে ফলো-আপ চিকিৎসা দিল সেনাবাহিনী
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে চক্ষু অপারেশন-পরবর্তী রোগীদের নিয়ে ফলো-আপ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। অপারেশনের পর রোগীদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ এবং ওষুধ সরবরাহের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দীঘিনালা জোন সদর দপ্তরে দিনব্যাপী এ ফলো-আপ চিকিৎসা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রামের লায়ন্স চ্যারিটেবল আই হাসপাতালের দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও একজন প্যারামেডিক অংশ নেন।
ক্যাম্পে গত ২৫ জুলাই লায়ন্স চ্যারিটেবল আই হাসপাতালে চক্ষু অপারেশন সম্পন্ন করা ২৮ জন রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন পাহাড়ি এবং ১৫ জন বাঙালি রোগী ছিলেন। অপারেশনের পর প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী এসব রোগীর নিয়মিত চিকিৎসা তদারকি নিশ্চিত করতেই এই ফলো-আপ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
চিকিৎসকরা রোগীদের চোখের অপারেশন-পরবর্তী অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে চোখের পরিচর্যা, নিয়মিত ওষুধ ব্যবহার, দৈনন্দিন চলাফেরায় সতর্কতা এবং পরবর্তী সময়ে কী কী বিষয় মেনে চলতে হবে সে বিষয়ে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও সরবরাহ করা হয়।

দীঘিনালা জোনের রেজিমেন্টাল মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কার্যক্রমে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের অপারেশন-পরবর্তী স্বাস্থ্যগত অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে চক্ষু অস্ত্রোপচারের পর কোনো রোগী যেন চিকিৎসা তদারকি থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জন্য নিয়মিত বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ফলো-আপের প্রয়োজন হলেও দূরত্ব, যাতায়াত ব্যয় ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক রোগী কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা নিতে পারেন না। এমন বাস্তবতায় দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ে ফলো-আপ চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনরা জানান, চক্ষু অপারেশনের পর আবার দূরের হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য। দীঘিনালা জোন সদর দপ্তরে ফলো-আপের ব্যবস্থা করায় তাঁদের সময়, যাতায়াতের কষ্ট ও অতিরিক্ত ব্যয় অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ায় তাঁরা উপকৃত হয়েছেন।

রোগী ও তাঁদের স্বজনরা এ উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং লায়ন্স চ্যারিটেবল আই হাসপাতাল, চট্টগ্রামের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, শুধু অস্ত্রোপচার করানো নয়, অপারেশনের পর রোগীদের নিয়মিত খোঁজ নেওয়া ও চিকিৎসা তদারকির ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ দুর্গম এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রতি আস্থা আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা ক্যাম্প, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় চক্ষু অপারেশন-পরবর্তী রোগীদের জন্য এই ফলো-আপ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত জনগণের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনের সময় তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চক্ষু চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষায়িত সেবা প্রত্যন্ত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অপারেশন-পরবর্তী চিকিৎসা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা মানবিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, এ ধরনের ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার আরও বেশি মানুষ চিকিৎসার সুযোগ পাবেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হবেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।