রামগড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুমোদনহীন হারবাল ওষুধ বিক্রি, দুই ব্যক্তি আটক

রামগড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুমোদনহীন হারবাল ওষুধ বিক্রি, দুই ব্যক্তি আটক

রামগড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুমোদনহীন হারবাল ওষুধ বিক্রি, দুই ব্যক্তি আটক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

খাগড়াছড়ির রামগড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুমোদনহীন হারবাল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাদের রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের হারবাল ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে রামগড় পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বৈদ্যটিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—জামালপুর জেলার মো. জসিম উদ্দিন ও সুনামগঞ্জ জেলার ওবায়দুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে অপরিচিত দুই ব্যক্তি বৈদ্যটিলা এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন নারীকে একত্রিত করে হারবাল ওষুধ বিক্রির চেষ্টা করেন। এ সময় তারা ‘বি.জি হারবাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পণ্য ওষুধ হিসেবে বিক্রি করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাদের কথাবার্তা ও ওষুধের গুণাগুণের প্রচারে আকৃষ্ট হয়ে কয়েকজন স্থানীয় নারী ওইসব পণ্য কিনেছেন বলেও জানা গেছে।

বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা মো. নিজাম উদ্দিনের সন্দেহ হলে তিনি ওই দুই ব্যক্তির কাছে তাদের প্রতিষ্ঠান ও ওষুধ বিক্রির অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান। তবে তারা কোনো সরকারি নিবন্ধন বা ওষুধ বিক্রির অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন নিজাম উদ্দিন।

পরে বিষয়টি জানিয়ে মো. নিজাম উদ্দিন রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। একই সঙ্গে স্থানীয়রা ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

রামগড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুমোদনহীন হারবাল ওষুধ বিক্রি, দুই ব্যক্তি আটক

রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, “অবৈধভাবে ওষুধ বিক্রির অভিযোগে স্থানীয় লোকজন দুই ব্যক্তিকে আমাদের কাছে নিয়ে এসেছেন। তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া এবং মুচলেকা নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে তদন্তে যদি অনুমোদনহীনভাবে ওষুধ বিক্রি বা প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় অপরিচিত ব্যক্তিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নানা ধরনের হারবাল ওষুধ ও স্বাস্থ্যপণ্য বিক্রির নামে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করেন। বিশেষ করে নারীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও রোগের ‘তাৎক্ষণিক সমাধান’-এর কথা বলে এসব পণ্য বিক্রির চেষ্টা করা হয়। ফলে এসব পণ্যের বৈধতা, গুণগত মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি যাচাই করা জরুরি।

স্থানীয়দের দাবি, অনুমোদনহীন ওষুধ বা স্বাস্থ্যপণ্য বিক্রির মাধ্যমে কেউ যাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে না পারে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো ধরনের ওষুধ বা স্বাস্থ্যপণ্য না কেনার জন্যও সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।