দক্ষিণ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের বিতাড়নে মার্কিন আদালতের অনুমতি

দক্ষিণ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের বিতাড়নে মার্কিন আদালতের অনুমতি

দক্ষিণ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের বিতাড়নে মার্কিন আদালতের অনুমতি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষিণ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের সাময়িক সুরক্ষা বাতিল করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পথ পরিষ্কার হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে অভিবাসী অধিকারকর্মীদের করা শেষ মুহূর্তের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দুই ফেডারেল বিচারক।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার ম্যাসাচুসেটসের বস্টন ও ইলিনয়ের শিকাগোর আদালত এ রায় দেন। এর ফলে দুই দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বহাল থাকা টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস বাতিলের ক্ষেত্রে প্রশাসনের আরেকটি বাধা দূর হলো।

টিপিএস-এর আওতায় নিজ দেশে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য গুরুতর পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে নির্বাসন থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের কাজের অনুমতিও দেওয়া হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, টিপিএস বাতিল হলে দক্ষিণ সুদানের প্রায় ২৩২ জন এবং মিয়ানমারের প্রায় ৪ হাজার নাগরিক এই সুরক্ষা হারাবেন।

এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার হাজারো নাগরিকের টিপিএস বাতিলের অনুমতি দেয়। ওই রায়ের পর প্রায় এক ডজন দেশের নাগরিকদের টিপিএস বাতিলের বিষয়ে নিম্ন আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্টের মতে, এই কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অভিবাসী অধিকারকর্মীদের আইনজীবীরা নতুন করে মামলা করেন। তাদের দাবি ছিল, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)-এর টিপিএস বাতিল করার আইনি ক্ষমতা নেই।

তবে বস্টনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক প্যাটি সারিস এ যুক্তি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, এই যুক্তি গ্রহণ করলে শুধু ডিএইচএস-এর টিপিএস বাতিলের ক্ষমতাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে না, বরং দীর্ঘদিন ধরে এই সুরক্ষা বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও প্রশ্নের মুখে পড়বে।

কয়েক ঘণ্টা পর শিকাগোর বিচারক ম্যাথিউ কেনেলিও মিয়ানমারের নাগরিকদের ক্ষেত্রে একই ধরনের সিদ্ধান্ত দেন।

অভিবাসী অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই রায়ের ফলে টিপিএস সুবিধাভোগীরা নির্বাসনের ঝুঁকিতে পড়েছেন। চলমান আইনি লড়াইয়ের মধ্যে আদালতের দেওয়া ‘প্রশাসনিক স্থগিতাদেশের’ কারণে তারা এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ চালিয়ে যেতে পারছিলেন। কিন্তু নতুন রায়ের ফলে সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় থাকা দেশগুলোতে তাদের ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ সুদানের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের নভেম্বরে টিপিএস বাতিলের উদ্যোগ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটি ২০১১ সাল থেকে চলমান সংঘাতের কারণে এই সুরক্ষা পেয়ে আসছিল। অন্যদিকে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্যও টিপিএস চালু ছিল।

ডিএইচএস-এর জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল বলেন, নতুন রায়ের পর ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার নাগরিকদের টিপিএস বাতিলের উদ্যোগই কেবল আদালতের বাধার মধ্যে রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, এই প্রশাসনিক স্থগিতাদেশগুলো যতদিন কার্যকর থাকবে, ততদিন মার্কিন জনগণ নির্বাচনে যে সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন থেকে বঞ্চিত হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *