পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও জাতীয় সংহতি রক্ষায় সংলাপের আহ্বান পিসিএনপির

পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও জাতীয় সংহতি রক্ষায় সংলাপের আহ্বান পিসিএনপির

পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও জাতীয় সংহতি রক্ষায় সংলাপের আহ্বান পিসিএনপির
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের সব সম্প্রদায়ের অধিকার, শান্তি, সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতি রক্ষার প্রত্যয়ে রাজধানীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়সংগত স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

রোববার (৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) আয়োজিত এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা: অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতি বিনির্মাণে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পিসিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব মো. আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া।

পিসিএনপির চেয়ারম্যান মো. আবদুল হামিদ রানার সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন পিসিএনপির খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন।

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নজরুল গবেষক ও আধিপত্যবাদ বিরোধী জনতার মঞ্চের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আতা উল্লাহ এবং সাংবাদিক, গবেষক ও ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি এ এইচ এম ফারুক।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় অঞ্চল। এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে পাহাড়ে বসবাসরত প্রতিটি সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার, নাগরিক মর্যাদা এবং ন্যায়সংগত স্বার্থ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। তাই কোনো ধরনের বিভাজন, পারস্পরিক অবিশ্বাস কিংবা সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং আইনের শাসনের মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দিবস পালনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কোনো আন্তর্জাতিক ইস্যু যেন দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন বা পারস্পরিক দূরত্ব তৈরির কারণ না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

তাদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য সব সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও আস্থা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে নাগরিক অধিকার ও আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমেও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে।

সভায় বক্তারা জাতীয় সংহতি অক্ষুণ্ন রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ন্যায়সংগত অধিকার ও প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, সংলাপ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন করা গেলে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।

আলোচনা সভায় পিসিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, গবেষক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *