আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে রাঙামাটিতে র্যালি, চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে আন্তর্জাতিক আদিবস দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রবিবার সকালে রাঙামাটি পৌরসভা চত্বরে দলীয় নৃত্য ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সংগঠনগুলো। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং এ জন্য দ্রুত একটি বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি ও শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট চঞ্চু চাকমা, ফদাং তাং রান্দাল ও সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদারসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, তারা রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান। একই সঙ্গে জাতিসংঘ ঘোষিত অধিকার বাস্তবায়ন এবং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, জনগোষ্ঠীর পরিচয় কোনো পক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তারা রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে নিজেদের পরিচয়ের স্বীকৃতি দাবি করে আসছেন। তবে সরকার এখনো তাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের মৌলিক অধিকার ও প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি করা হয়েছিল। তাই চুক্তির যেসব ধারা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণারও দাবি জানান তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি ও শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ভুল রাজনীতি করে আসছে। এ অঞ্চলের মানুষের জনদাবিকে গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রায় তিন দশক আগে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সেটি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে না এবং বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অনন্তকাল ধরে এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে পারে না।
শিশির চাকমা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের কাছে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা বা কর্মসূচির চেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ততটা আগ্রহ নেই। আমরা চাই শুধু শান্তিতে বসবাস করতে।’

আলোচনা সভা শেষে রাঙামাটি পৌরসভা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ, সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সরকারকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।