মাতারবাড়ির মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মাতারবাড়ির মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মাতারবাড়ির মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পসমূহ পরিদর্শন করেছেন।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে পৌঁছান তিনি। এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

মাতারবাড়িতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মো. মাহফুজউল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মাতারবাড়ি আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা)-এর চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং নেন।

ব্রিফিংয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন, পরিচালনা, জ্বালানি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

কর্মকর্তারা বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এ তথ্য জেনে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেশীয় প্রকৌশলী ও কর্মীদের দক্ষতার প্রশংসা করেন। পরে তিনি প্রকল্প এলাকায় একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন।

মাতারবাড়ির মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এরপর প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প, নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থান, এলপিজি ও এলএনজি টার্মিনাল, কয়লা টার্মিনাল, কোল জেটি এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন স্থাপনার কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে হবে। বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প পরিচালনায় অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গভীর সমুদ্রবন্দরের সমন্বিত উন্নয়ন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরকে ঘিরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যে ধরনের দায়িত্ব ও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে, জেলা পুলিশ তা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছে। সফর নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মো. মাহফুজউল্লাহ ফরিদ, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মাতারবাড়ির কর্মসূচি শেষে ওইদিন দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ ও নতুন ঘর হস্তান্তরসহ পরবর্তী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *