কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে মানববন্ধন, ১৮ দফা দাবি

কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে মানববন্ধন, ১৮ দফা দাবি

কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে মানববন্ধন, ১৮ দফা দাবি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

তারেকুর রহমান, কক্সবাজার 

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে মানববন্ধন, আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটির ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে রাখাইন, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, মারমা, ম্রোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও জাতিগত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কর্মসূচিতে বক্তারা নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, ভূমি ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

সমাবেশে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ১৮ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন, মাতৃভাষায় শিক্ষা, সরকারি চাকরি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শ্মশানের নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন প্রকল্পে অংশগ্রহণ, নারী অধিকার ও নিরাপত্তা, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন, ভূমির অধিকার সংরক্ষণ, জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে আন্তর্জাতিক দিবস পালনের দাবি।

আদিবাসী ফোরাম কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মংথেহ্লা রাখাইন বলেন, তাদের দাবি শুধু সাংস্কৃতিক অধিকার নয়; সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অধিকারও এর সঙ্গে যুক্ত। তিনি কক্সবাজারে পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠারও দাবি জানান।

কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে মানববন্ধন, ১৮ দফা দাবি

চাকমা-তঞ্চঙ্গা স্টুডেন্ট কাউন্সিলের (উখিয়া-টেকনাফ) সাধারণ সম্পাদক নেপাল চাকমা বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, ভূমি, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক আলো চাকমা বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও তারা নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন। রাখাইন উইমেন্স ফোরামের সভাপতি মা টিনটিন ভাষা, সংস্কৃতি, অধিকার ও পরিচয় সংরক্ষণের পাশাপাশি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন।

পরিচয় নিয়ে ভিন্নমত

আন্তর্জাতিক দিবসকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আত্মপরিচয়ের প্রশ্নটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়ের মধ্যেও ‘আদিবাসী’ পরিচয় ব্যবহারের বিষয়ে অভিন্ন মত নেই। স্থানীয় কয়েকজন রাখাইন জানান, তারা নিজেদের জাতিগত পরিচয় হিসেবে ‘রাখাইন’ পরিচয়েই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

বাংলাদেশের আইনগত ও সাংবিধানিক কাঠামোর দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দের পরিবর্তে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে এসব জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।

ফলে সমাবেশে উত্থাপিত ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিটি বর্তমানে বাংলাদেশের সাংবিধানিক পরিভাষার সঙ্গে অভিন্ন নয়। একই সঙ্গে যেকোনো নাগরিকের শান্তিপূর্ণভাবে দাবি ও মতামত প্রকাশের অধিকারও সংবিধান ও প্রচলিত আইনের কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োগযোগ্য।

১৯৯৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৯/২১৪ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দিবসটির মূল লক্ষ্য সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি ও মর্যাদা বিষয়ে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি। তবে বাংলাদেশে দিবসটি পালনের ক্ষেত্রে দেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং রাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক কাঠামো সমুন্নত রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

মানববন্ধন ও আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা শোভাযাত্রা বের করেন। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *