পার্বত্য অঞ্চলের সংকট মেটাতে ৩ প্রস্তাব আসিফ মাহমুদের
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য অঞ্চলের চলমান পরিস্থিতি ও সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা সংকট নিরসনে অ্যাকাডেমিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক এই তিন স্তরের স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনো ছাড় না দেওয়ার পাশাপাশি একে ‘রেড লাইন’ হিসেবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত আন্দোলন জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম গবেষণা ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) উদ্যোগে ‘ইনডিজেনাস আইডেন্টিটি ইজ ইরিলিভেন্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সিএইচআরএফের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আমাদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যারা আছেন তারা উনাদের অধিকারের কথা বলবেন সেটাই স্বাভাবিক। তবে এখানে একটি রেড লাইন আছে। আর তা হলো আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং দেশের অখণ্ডতা। এই জায়গাটিকে রক্ষা করে তবেই অধিকার ও ইনক্লুসিভিটির বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। রেড লাইনের বিষয়ে আমাদের সবাইকে খুব সতর্ক ও সচেতনভাবে দেখতে হবে।
পার্বত্যাঞ্চলের সংকট তৈরির পেছনে রাজনৈতিক ভুলকে দায়ী করে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, অঞ্চলের সংকট তৈরির নেপথ্যে শুরু থেকেই ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। ৭২-এ শেখ মুজিবুর রহমান যখন বলেছিলেন সবাই বাঙালি হয়ে যান, সেখান থেকেই মূল মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বের উৎপত্তি।
পরবর্তীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কিছু উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনার আমলে প্রপার একাডেমি স্টাডি ও স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন ছাড়া চুক্তি করায় বিষয়টি আবারও ঘোলাটে রূপ নেয়।।
সংকট নিরসনে ৩ প্রস্তাব পার্বত্য সংকট সমাধানে তিনি তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরেন: ১. একাডেমিক সমাধান: আন্তর্জাতিক অঙ্গন বা জাতিসংঘের মতো ফোরামে বিষয়গুলো উপস্থাপনের জন্য দেশীয় রাজনৈতিক কিংবা আঞ্চলিক বিতর্ক না টেনে প্রপার অ্যাকাডেমিক স্টাডি ও গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড মেনে তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে হবে। ২. রাজনৈতিক উদ্যোগ: বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ ইস্যুতে একটি জাতীয় বোঝাপড়া তৈরি করা সম্ভব, যা ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। ৩. সামাজিক সদিচ্ছা: স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বাঙালিদের মধ্যে সামাজিক বোঝাপড়া ও পারস্পরিক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে হবে।
সীমান্তে সেনা উপস্থিতির যৌক্তিকতা সীমান্ত এলাকায় সেনা উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনার জবাবে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, আমি সরকারি দায়িত্বে থাকাকালে দেখেছি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের আলামত মেলে এবং সেনাসদস্যদের তা প্রতিরোধ করতে গিয়ে শহীদ হতে হয়। বাস্তবতার কারণেই সেখানে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখা প্রয়োজন।
গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খাঁন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, সাংবাদিক মারুফ কামাল খান এবং মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রব প্রমুখ।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।